কয়েন নিয়ে বিপাকে পাটকেলঘাটার ক্রেতা-বিক্রেতারা
সরকার বাতিল করেনি, প্রচলন রয়েছে তারপরও কয়েন নিয়ে বিপাকে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা বাজারের তিন হাজার ব্যবসায়ী। বিড়ম্বনায় ক্রেতারাও। একটাকা বা দুইটাকার কয়েন এমনকি পাঁচ টাকার কয়েনও নিচ্ছে না ব্যবসায়ীরা।
গ্রাহকরা বলছেন, দোকানদাররা কয়েন নিচ্ছে না। আবার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন মহাজন না নেওয়ায় আমরা নিতে পারছি না।
এদিকে স্থানীয় ব্যাংকগুলোতে গেলেও মিলছে না সমাধান। সব মিলিয়ে কয়েন নিয়ে দারুণ ভোগান্তির মধ্যে বাজারের ক্রেতা বিক্রেতারা।
তবে কয়েন নিয়ে ভোগান্তির বিষয়ে সোনালী ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখার ম্যানেজার (এম.ই.ও) কৃষ্ণপদ সরকার জাগো নিউজকে বলেন, যদি কোনো ব্যাংক কয়েনগুলো না নেয় তবে এটা তারা ঠিক করছে না। গ্রাহকরা যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আমার এখানে কেউ দিলে আমি সেগুলো অবশ্যই নিব।
সাতক্ষীরা জেলার বাণিজ্যিক বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম পাটকেলঘাটা বাজারে ব্যবসায়ীদের প্রায় তিন হাজার ছোট বড় দোকানে প্রায় ২০ লাখ টাকার কয়েন জমে আছে। ব্যবহার করতে পারছে না কেউ। এসব কয়েন কেউ ভরে রেখেছে বস্তায় আবার কেউবা ভরে রেখেছে টিনের কৌটায়। কয়েন নিয়ে বিড়ম্বনার যেন শেষ নেই পাটকেলঘাটা বাজারের ক্রেতা বিক্রেতাদের।
পাটকেলঘাটা বাজারের চালপট্টির খুচরা ব্যবসায়ী শেখ মোক্তাদির রহমান জাগো নিউজকে বলেন, কয়েনের জন্য আমি অনেক সমস্যা ভোগ করছি। প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকার কয়েন অনেক দিন ধরে পড়ে আছে। মাহাজনকে দিতে গেলে নিতে চায় না। কিন্তু গ্রাহকদের কাছ থেকে বাধ্য হয়ে আমাকে অনেক সময় নিতে হচ্ছে।
স্থানীয় আকবর আলি জানান, বাজারে দুই টাকা পাঁচ টাকার কয়েন তো কেউ নেয়ই না।

মুকুন্দ ভ্যারাইটি স্টোরের ব্যবসায়ী স্বপন সাধু বলেন, কয়েন কিভাবে নিবো। আমরা কাউকে দিতে গেলে তো কেউ নিচ্ছে না। কোনো ভিক্ষুককে এক বা দুই টাকা দিলে তারাও ফেরৎ দেয়। আমরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কী করবো। ব্যাংকে গেলেও নেয় না।
স্থানীয় ইন্দ্রজিৎ সাধু দাবি জানান, এ ব্যাপারে সরকারিভাবে প্রত্যেক ব্যংককে নির্দেশনা প্রদানের। তাহলেই মানুষ ভোগান্তি ও বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পাবে।
আকরামুল ইসলাম/এফএ/পিআর