নাব্যতা সঙ্কটে ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত
ঢাকা-পটুয়াখালী নৌ-রুটে নাব্যতা সঙ্কটে ব্যাহত হচ্ছে যাত্রী ও পণ্যবাহী লঞ্চ চলাচল। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন এই রুটের চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ।
দ্রুত সময়ের মধ্যে ড্রেজিং না করলে যেকোনো সময় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ রুটটি বন্ধ হতে পারে। ফলে স্থবির হয়ে পড়বে দক্ষিণ অঞ্চলের নদী নির্ভর অর্থনীতি।
জানা গেছে, পটুয়াখালী থেকে ঢাকা পর্যন্ত যে ২৫২ কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে এর বেশকয়েকটি স্থানেই ডুবোচরের ফলে প্রায়ই লঞ্চগুলো আটকে যায়। এছাড়া অনেক স্থানে নাব্যতা সঙ্কটের কারণে লঞ্চগুলোকে ধীর গতিতে চলাচল করতে হচ্ছে, ফলে এই রুটের লঞ্চগুলো নির্ধারিত সময়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। 
আর বর্তমান শীত মৌসুমে নদীতে পানি কম থাকায় এ ভোগান্তি আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিনে এমভি কুয়াকাটা-১, এমভি সুন্দরবন-৯, এমভি এ আর খানসহ বেশ কয়েকটি ডাবল ডেকার যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবোচরে আটকে থাকার ঘটনাও ঘটেছে। এ কারণে যাত্রীদের মধ্যে এখন ডুবোচর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
পটুয়াখালী-ঢাকা নৌ-রুটে চলাচলকারী ডাবল ডেকার লঞ্চ কুয়াকাটা-১ ২য় মাস্টার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কবাই থেকে শুরু করে পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত লম্বা লম্বা অনেক ডুবোচর রয়েছে। এসব ডুবোচরে সব সময় লঞ্চ ধাক্কা খায় এতে অনেক সময় পাখা ভেঙে যায়। জোয়ারের সময় সমস্যা না হলেও ভাটার সময় জাহাজ আটকা পড়ে। সিমিত চ্যানেলের মধ্য দিয়ে লঞ্চ চলাচল করতে হয়। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়।
ঘাট ইজারাদার ফারুক হোসেন বলেন, ডুবোচরের কারণে ঢাকাগামী ডাবল ডেকার লঞ্চ পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনালে আসতে পারে না। ফলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। তাই সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই দ্রুত সময়ের মধ্যে নাব্যতা সঙ্কট দূর করুন।
পটুয়াখালী বিআইডব্লিউটিএ উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, নাব্যতা সঙ্কটের সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে নদী বন্দরের কাছে ড্রেজিং শুরু হয়েছে পরবর্তীতে এই রুটের সকল ডুবোচর ড্রেজিং করা হবে।
পটুয়াখালী অঞ্চলের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে দ্রুত এই নৌ রুটটি খনন করার দাবি জেলাবাসীর।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/পিআর