লৌহজংয়ে বালু উত্তোলনে শঙ্কার মুখে বিভিন্ন স্থাপনা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বরাটি নরদানা বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে পাইপ স্থাপন করে লৌহজং নদী থেকে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুধু তাই নয় ড্রেজার মেশিন দিয়ে যত্রতত্র বালু উত্তোলন করায় ইতোমধ্যে বরাটি-ধল্যা সড়ক রক্ষা বাঁধটির বিপুল অংশ ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে। এছাড়া নদীর উপর নবনির্মিত বরাটি ব্রিজটিও হুমকির মুখে পড়বে বলে এলাকার লোকজন আশঙ্কা করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় সংলগ্ন লৌহজং নদীতে দুইটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বরাটি নরদানা বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব আলী মল্লিক ও তার ছোট ভাই আজিজ মল্লিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে তাদের বাড়ির সামনে জমিতে প্রায় ২ লাখ ঘনফুট বালু ফেলে ভরাট করছেন।
ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় বরাটি নরদানা বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। ড্রেজার মেশিনের পাইপ বিদ্যালয়ের মাঠের উপর দিয়ে স্থাপন করায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ ব্যাপকভাবে বিনষ্ট করছে বলে অভিভাবকরা জানিয়েছেন।
এছাড়া ড্রেজার মেশিন দিয়ে যত্রতত্র বালু উত্তোলন করায় বরাটি-ধল্যা সড়ক রক্ষা বাঁধটির বিপুল অংশ ভেঙে নদীগর্ভে চলে গেছে। নবনির্মিত বরাটি ব্রিজটিও হুমকির মুখে পড়বে বলে এরাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কলিমাজানি গ্রামের মেছের আলী ড্রেজার মেশিন দিয়ে বিদ্যালয় সংলগ্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
নরদানা গ্রামের হাসান আলী, আফরোজা বেগম ও মিলি বেগম বলেন, মেছের আলী নরদানা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ের জামাই। বিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে পাইপ স্থাপন করে প্রধান শিক্ষক ও তার ভায়েরা জমি ভরাট করছেন। এতে বিদ্যালয় ও সড়ক রক্ষা বাঁধ ভাঙনের কবলে পড়েছে। কেউ বলতেও পারছেন না।
অপরিকলল্পিত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। বালু তোলার কারণে বরাটি-ধল্যা সড়ক রক্ষাকারী বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট জায়গা দেবে ও ভেঙে গেছে।
আনুমানিক দুইশ গজ দূরেই আরেকটি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজার মেশিনের চালক গেরামারা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, বানাইল ইউনিয়নের বাদ হালালিয়া গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার মোছলেম উদ্দিন ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব আলী মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ছোট ভাই আজিজ মলিক, সাদেক মিয়া ও মেছের আলী তার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বালু উত্তোলন করছেন।
বিদ্যালয় সংলগ্ন নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে পাইপ স্থাপন করে তার জমি ভরাট করার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ওই জমি আমার নয় ভাইদের।
বিষয়টি প্রশাসন ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতিকে জানানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি নিরোত্তর থাকেন।
ড্রেজার মেশিনের মালিক মেছের আলী বলেন, তার ড্রেজার মেশিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, আজিজ মল্লিক ও সাদেক আলী ভাড়ায় নিয়েছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন সিদ্দিকী বলেন, উত্তোলিত বালু দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট করার কথা। কিন্তু উত্তোলনকৃত বালু অন্যত্র ফেলার বিষয়টি তিনি জানেন না বলে উল্লেখ করেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত সাদমীন বলেন, ইউনিয়ন সহকারি ভূমি অফিসারের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এরশাদ/এফএ/এমএস