৯ বছর ধরে চলছে অনুমোদনহীন ইটভাটা


প্রকাশিত: ০৬:২০ এএম, ৩০ জানুয়ারি ২০১৭

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘ নয় বছর যাবত আবাদি জমি ও বসত বাড়ির পাশে ইটভাটা চালানো হচ্ছে। উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের কড়াইল গ্রামে কে আর বি ব্রিকস নামে এই ইট ভাটায় অনুমোদন ছাড়াই ইট তৈরি করে পোড়ানো হচ্ছে। তাও আবার কয়লার পরিবর্তে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।

ভাটার কালো ধোঁয়ায় প্রতিবছরই আশপাশের বাড়ির গাছের ফল নষ্ট হচ্ছে। মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে টিনের চাল। তাছাড়া আবাদি জমির ফসলও ভালো হচ্ছে না বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী কাজী নাজমুল আলম ঈগল ও তার শ্যালক নাগরপুর উপজেলার শহিদুল ইসলাম ভাটাটি চালাচ্ছেন। অনুমোদন ছাড়া ভাটাটির বিরুদ্ধে স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ অনুযায়ী, কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ছাড়া আবাসিক এলাকা থেকে এক কিলোমিটার এবং ইউনিয়ন বা গ্রামীণ সড়ক থেকে অন্তত আধা কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।

Mirzapur

সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই ইটভাটার আশেপাশে কমপক্ষে ১০০টি পরিবারের বসবাস। চারপাশে রয়েছে আবাদি জমি। ইতিমধ্যে ভাটার পাশের জমিতে ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে। এছাড়া রয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) সড়ক।

সড়কটি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার কদিমধল্যা থেকে মহেড়া পুলিশ টেনিং সেন্টার ও পার্শ্ববর্তী বাসাইল উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত। সড়কটি দিয়ে মোটরসাইকেল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ প্রতিদিন কমপক্ষে তিন হাজার যানবাহন চলাচল করে বলে শ্রমিকেরা জানান। ভাটার কালো ধোঁয়ার কারণে আশেপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। অনুমোদন ছাড়াই নয় বছর ধরে ভাটাটি চললেও বিষয়টি এলাকার কেউই জানেন না।

ভাটার পাশের বাড়িতে বসবাসকারী মফিজ মিয়া (৫০) জানান, কালো ধোঁয়ার কারণে প্রতিবছরই গাছের ফল নষ্ট হয়ে যায়। টিনের চালে মরিচা ধরেছে। তাছাড়া আবাদি জমিতে ফসলও ভা্লো হয় না।

পাশেই একটি চায়ের দোকান রয়েছে। দোকানের মালিক সাইদুর রহমান (৫৫) বলেন, ভাটার অনুমোদন আছে কি না তা আমাদের জানা নেই। সুপারি গাছে সুপারি থাকছে না। কাউকে কিছু বলেও লাভ হয় না। এলাকার লোক ভাটাটি চালায়। তাই কষ্ট সহ্য করে থাকি।

Mirzapur

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন বলেন, ভাটায় ইট পোড়ানোর কারণে তাদের আবাদি জমিতে ধান ও সরিষার উৎপাদন কমে গেছে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের একাধিকবার বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।  

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এর কার্যালয়ের একটি সূত্র জানান, ওই ভাটার কোনো অনুমোদন নেই।

ভাটার মালিক কাজী নাজমুল আলম ঈগল বলেন, ডিসি অফিসে আবেদন করেছি। কিন্তু অনুমোদন দেয় না। ডিসি অফিসে এল আর ফান্ডে টাকা জমা দেয়া হয়েছে। প্রতিবছরই টাকা দিতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভাটায় কয়লার বদলে কাঠ পোড়ান কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতবারের চেয়ে এ বছর কয়লার দাম বেড়েছে। আগুনের তাপ বাড়ানোর জন্য কিছু কাঠ পোড়ানো হয়।

পরিবেশ অধিদফর টাঙ্গাইলের উপ-পরিচালক আমিরুল ইসলাম জানান, ওই ভাটার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে।
 
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরএআর/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।