কাজ না করে বিল উত্তোলন : ইউপি সদস্যকে হুমকি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন বেপারীর বিরুদ্ধে সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য ও তার স্বামীকে হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
চেয়ারম্যান কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজ না করেই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য মরিয়ম বেগমকে ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর করতে বলেন।
স্বাক্ষর না করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ‘৫ বছরেরও কোনো কাজ দেয়া হবে না’ বলে অব্যাহত হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন মরিয়ম বেগম।
এর আগে একটি রাস্তায় ৭২ জন শ্রমিক কাজ করেছে বলে ১৬টি খালি বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়। এসব ঘটনার বিচার চেয়ে মঙ্গলবার মরিয়মের স্বামী লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টের আইনজীবী সহকারী ইউছুফ আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাহান মেম্বারের বাড়ির ইটের সলিং, কাঠের পুলের পাশে প্যালাসাইটিং ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িখালের রাস্তায় ৪০ দিনের মাটি কাটার কর্মসূচির বিলে স্বাক্ষর করার জন্য মরিয়ম বেগমকে চাপ দেয়া হয়। বাস্তবে এসব প্রকল্পে কোনো উন্নয়ন কাজ কাজ হয়নি।
এছাড়া মরিয়মকে ভুল বুঝিয়ে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়ির খালের রাস্তায় ৭২ জন শ্রমিক কাজ করেছে বলে ১৬টি খালি বিল-ভাউচারে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়া হয়। চেয়ারম্যান ও তার ছেলে স্থানীয় যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেন গত কয়েকদিন ধরে মরিয়ম ও তার স্বামীকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মরিয়ম বেগমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগকারী তার স্বামী ইউছুফ আলী বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আমার স্ত্রীকে গোপনে প্রকল্পের চেয়ারম্যান বানিয়ে টাকা আত্মাসাৎ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
দক্ষিণ চরআবাবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বেপারী বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে মহিলা সদস্যের স্বামী লিখিত অভিযোগ করেছেন। প্রকল্পগুলোর একটি টাকাও উত্তোলন করা হয়নি। এ সংকট কেটে যাবে।
রায়পুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, কাজ না হওয়া বিল উত্তোলনের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কাজল কায়েস/এএম/এমএস