যমুনার চরে গমের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি


প্রকাশিত: ০৩:২২ পিএম, ১৯ মার্চ ২০১৭

বর্ষা মৌসুম এলেই নদী পাড়ের মানুষের সর্বনাশা যমুনা সব কেড়ে নেয়। আবার প্রতি বছর এ যমুনাই আবার আর্শিবাদ হয়ে দেখা দেয় তাদের জীবনে। পলি জমিয়ে জেগে ওঠা চরে সোনার ফসল ফলাতে তাদের জীবনে বড় ভূমিকা রাখছে যমুনা।

নদী ভাঙনের শিকার এসব মানুষ অভাব আর হতাশকে পেছনে ফেলে নতুন করে আবাদ করে, নতুনভাবে অবতীর্ণ হয়েছে জীবনযুদ্ধে। দারিদ্র্যজয়ী নদী তীরের মানুষ এ বছর শীতের ফসল চাষ করে শত ভাগ সাফল্য পেয়েছে।

আমন ধান, সরিষার ও ভুট্টার বাম্পার ফলনের পর গমের বাম্পার ফলনে তাদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। চরাঞ্চলে নারী-পুরুষ এখন গমকাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। আশাতীত ফলন হওয়ায় খুশি চরাঞ্চলের কৃষকরা।

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর চরে এবার গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। নদী ভাঙ্গা ৩ সহস্রাধিক মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে গম চাষ করে। চলতি মৌসুমে যমুনা নদীর চরে বৃহদাকারে হয়েছে গমের চাষ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও দ্বিগুন জমিতে গমের চাষ হয়েছে এবার। সঞ্চয় হয়েছে অদম্য শক্তি ও সাহস। গম চাষ করে তাদের সংসারে এসেছে স্বচ্ছলতা। বর্ষা মৌসুমে রাক্ষুসী নদী বসত ভিটা কেড়ে নিলেও এখানকার উৎপাদিত ফসল তাদের শক্তি ও সাহস জুগিয়েছে। চরের যেদিকে তাকানো যায় শুধু ফসল আর ফসল। নানা ধরনের ফসল চরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। একারণে তারা মুক্তি পেয়েছে ক্ষুধা ও দারিদ্র থেকে।

অগ্রহায়ণ ও পৌষ মাসে চরাঞ্চলের জমিতে গম বীজ বপন করা হয়। ফাল্গুনের শেষে ও চৈত্র মাসের প্রথম দিকে কাটা মাড়াই শুরু হয়। গমের চারা রোপনের পর খুব একটা বেশী সেচ দিতে হয় না। জমি চাষের সময় মাটির নিচে প্রয়োজন মোতাবেক জৈব্য সার ও চারা বড় হওয়ার কিছুদিন পরেই মাটির উপরের অংশে সামান্য ইউরিয়া সার প্রয়োগে ভালো ফলন পাওয়া যায়। ফলে গম চাষে খরচ হয় কম লাভবান হন কৃষক-কৃষাণীরা।

sirajgonj

জানা যায়, নদীপাড়ের মানুষের আর্শিবাদও যমুনা। যমুনা যেমন প্রতি বছর ঘর-বাড়ি গ্রাস করছে তেমনি পলি জমিয়ে জেগে ওঠা চরে সোনার ফসল ফলাতেও সমান ভূমিকা রাখছে। তাই তো প্রতিবছর বর্ষা মৌসুষ শেষে যমুনা আর্শিবাদ হয়ে দেখা দেয় নদী পাড়ের মানুষের জীবনে। পলি পড়া চরের জমিতে গম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। যমুনা নদীতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর ফলে চরের পরিধি দিনদিন বেড়েই চলেছে। শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে বিশাল আকারে চর জেগে উঠেছে।

এছাড়া যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর চরাঞ্চলে এ বছর ব্যাপক হারে গম চাষ করেছেন কৃষকরা।

উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং পুঁজি পেলে গম চাষের পরিধি আরও বিস্তৃতি লাভ করবে বলে কৃষকদের দাবি।

যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জর সদর উপজেলার জিয়া মোড় এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম, খায়রুল আলম, রহিজ উদ্দিন জানান, গত ৭ থেকে ৮ বছর আগে যমুনা নদীর তার বাড়ি ঘর গ্রাস করেছে। নদী তাকে সর্বশান্ত করলেও গত ৫ বছর ধরে ওইস্থানে চর জেগে উঠায় সেখানে তিনি এবার ৩ বিঘা জমিতে গমের আবাদ করেছেন।

কাওয়াকোলা চরের কৃষক আবুল হোসেন ও বাবলু হোসেন জানান, বর্ষা মৌসুমে চরের জমিতে পানিতে ডুবে থাকে। তখন আমাদের অলস বসে থাকতে হয়। চর থেকে পানি চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানকার কৃষকরা গমের আবাদ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে গম ঘরে তুলতে শুরু করেছে কৃষকরা। ভালো দাম পাওয়া গেলে বেশি লাভবান হওয়া যাবে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তাজুল ইসলাম পাটোয়ারী জানান, এ বছর যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন চর অঞ্চলে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর চরেই সবচেয়ে বেশি গম চাষ হয়ে থাকে। এখানে আবাদ করতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয়না। পলি পড়া চরের জমিতে গম চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

এমএএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।