বখাটের ভয়ে ৩ মাস ধরে ক্লাসে যায় না মাদরাসাছাত্রী


প্রকাশিত: ১১:১৬ এএম, ২০ মার্চ ২০১৭

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ৫ নং কমলাপুর ইউনিয়নের চৌদ্দবুরিয়া এলাকার দশম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে।

এ নিয়ে মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর পরিবার। মামলার পর থেকে বখাটের হামলার ভয়ে মাদরাসা যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে ঘরবন্দি হয়ে আছে ওই ছাত্রী। সেই সঙ্গে বখাটের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে নির্যাতিতার পরিবার।

এদিকে এই মামলার আসামিদের গ্রেফতার না করে তাদের পলাতক দেখিয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকায় রয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে আতঙ্কে পালিয়ে দিন কাটাচ্ছে নির্যাতিতা ও তার পরিবার।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ওই ছাত্রী পরীক্ষা শেষে বাড়ি আসার পথে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মো. সাঈদ ও মো. ইমাম হোসেন এবং তার সহযোগীরা ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করে।

এ সময় ওই ছাত্রীর ভাই প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা তাকে নির্যাতন করে। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর জামা-কাপড় টেনে মারধর করা হয়। এতে ওই স্কুলছাত্রীর শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়।  
 
এ নিয়ে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার পর থেকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী বখাটে মো. সাঈদ ও মো. ইমাম হোসেন মোবাইল ফোনে ওই ছাত্রীকে হত্যা ও তার মুখে এসিড নিক্ষেপের হুমকি দিচ্ছে। পাশাপাশি ওই ছাত্রীর পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে তারা। ভয়ে নির্যাতিত পরিবারটি পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

সেই সঙ্গে গত তিন মাস ধরে ওই মাদরাসাছাত্রী ক্লাসে যেতে পারছে না। এমনকি বাড়ির বাইরেও যেতে পারছে না বখাটের ভয়ে।

এ বিষয়ে আদর্শ বালিকা দাখিল মাদরাসার সুপার মো. আবদুল মোতালেব বলেন, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবারকে একাধিকবার সন্ত্রাসীরা মারধর করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে গেছে। আমার প্রতিষ্ঠানের ওই ছাত্রী অনেক মেধাবী। কিন্তু সন্ত্রাসীদের ভয়ে গত তিন মাস সে ক্লাসে আসতে পারছে না।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মহিবুল্লাহ চৌধুরী/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।