সাতক্ষীরার জনিকে হাজির করতে হাইকোর্টের নির্দেশ


প্রকাশিত: ০২:২০ পিএম, ২০ মার্চ ২০১৭

সাতক্ষীরা শহরের কুকরালি এলাকার হোমিও চিকিৎসক মোখলেছুর রহমান জনিকে চার সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে হাজিরের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার ও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অগ্রবর্তী প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

নিখোঁজের জনির স্ত্রী ডা. জেসমিন নাহারের দায়ের করা রিট পিটিশন শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রোববার এই আদেশ দেন। তাছাড়া আগামী ৯ মে মামলাটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রাখতে বলা হয়েছে।

সাতক্ষীরা ল’ কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী শহরের কুকরালির হোমিও চিকিৎসক ডা. জেসমিন নাহার রেশমা রিট পিটিশনে উল্লেখ করেন, গত বছরের ৪ আগস্ট রাতে অসুস্থ বাবার জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে লাবনী সিনেমা হলের মোড় এলাকা থেকে সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক হিমেল তার স্বামী হোমিও চিকিৎসক মোখলেছুর রহমান জনিকে থানায় ধরে নিয়ে যায়।

এরপর ৫, ৬ ও ৭ আগস্ট তিনি শ্বশুর ও স্বজনদের নিয়ে থানা লকআপে তাকে খাবার দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে কথা বলেছেন।

তৎকালীন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ ও উপ-পরিদর্শক হিমেলের সঙ্গে কথা বললে জনির জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানানো হয়।

স্বামীর মুক্তির বিনিময়ে তার কাছে দাবি করা হয় মোটা অংকের টাকা। ৮ আগস্ট থানায় গেলে জনিকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ জনির অবস্থান সম্পর্কে জানাতে পারেনি।

বিষয়টি  সাংবাদিক জনপ্রতিনিধি, ক্ষমতাসীন দলের নেতা, জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি। ২৪ আগস্ট জানানো হয় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারকে। ২৬ ডিসেম্বর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।

বাধ্য হয়ে তিনি ৩ জানুয়ারি সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। স্বামীর খোঁজে সাত মাস ধরে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে যান তিনি।

একপর্যায়ে তার সন্ধান করতে না পেরে গত ২ মার্চ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মহাপুলিশ পরিদর্শক, উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (খুলনা), সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার, সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপ-পরিদর্শক হিমেল ও সাতক্ষীরা কারাগারের জেলারকে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।

রিট দায়েরের পর ৬ মার্চ শুনানি শেষে আদালত রুল জারির পাশাপাশি নিখোঁজের বিষয়ে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের ব্যাখ্যা চেয়ে ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেন।

১৯ মার্চ রোববার আদালতে উপস্থাপন করা পুলিশ সুপারের ব্যাখ্যায় বলা হয়, নিখোঁজ মোখলেছুর রহমান নিষিদ্ধ সংগঠন ‘আল্লাহ’র দল’ এর সঙ্গে যুক্ত এবং তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. মতিয়ার রহমান বলেন, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জনিকে খুঁজে বের করে বিচারিক আদালতে হাজির করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অগ্রবর্তী প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

আকরামুল ইসলাম/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।