গাইবান্ধায় সিসি ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ছে


প্রকাশিত: ০৭:৩৩ এএম, ২৮ এপ্রিল ২০১৫

গাইবান্ধায় বাসা-বাড়িসহ বিভিন্ন অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিজ নিজ উদ্যোগে সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সুফল পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবহারকারীরা।

স্থানীয় আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিসি ক্যামেরা সহজলভ্য হলে এর ব্যবহার আরো বাড়বে। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই ক্যামেরার মাধ্যমে অপরাধ প্রবণতা কমানো সম্ভব। শহরের বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা গেছে সিসি ক্যামেরা কত সহজে আয়ত্ব করেছেন সাধারণ মানুষ।

গাইবান্ধা শহরের কাচারীবাজারের পুরুষ শূন্য একটি বাড়িতে বাস করেন ইয়াসমীন হাসিনা মুক্তি ও তার জা নাজনীন বেগম। কিছুদিন আগেও দফায় দফায় ছিঁচকে চোর আর মাদকাসক্তদের অত্যাচারে অতিষ্ট ছিলেন তারা। প্রায়ই তাদের বাড়িতে চুরি সংঘটিত হত। সন্ধ্যার পর বাড়ির চারপাশে বসতো মাদকাসক্তদের আখড়া। বার বার পুলিশ প্রশাসনের কাছে ধরণা দিয়েছেন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য। উল্টো প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে অপরাধীদের নাম ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়। অপরাধীরা তাদের পরিচিত না হওয়ায় তারা প্রশাসনের কাছ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাননি।

অপরাধীদের শনাক্ত করতে বাধ্য হয়ে তারা বাড়ির চারপাশে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছেন। অত্যাধুনিক এই ক্যামেরা লাগানোর পর চুরি তো দূরের কথা মাদকাসক্তরা আর বাড়িটির আশেপাশেও আসে না। পুরুষশূন্য ওই বাড়িটি এখন অনেকটাই নিরাপদ। এখন ঘরে বসেই বাড়ির চারপাশে নজর রাখতে পারছেন তারা। আর এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে সিসি ক্যামেরার কল্যাণে।


ওই বাড়ির গৃহিণী ইয়াসমীন হাসিনা মুক্তি বলেন, এখন আর নিজেদের নিরাপত্তা চেয়ে তাদের পুলিশ প্রশাসনের কাছে যেতে হয় না। অপরাধীরা ভয়ে এখন সিসি ক্যামেরার বাইরে থাকে। যার ফলে তাদের আর দুশ্চিন্তা করতে হয় না।
একই পরিস্থিতি পার্ক ভিউ সুপার মার্কেটের দুলু মিয়ার কসমেটিকসের দোকানে।

দুলু জানালেন, আগে বেশ ক’জন কর্মচারী থাকার পরও জিনিসপত্র চুরি হয়ে যেত। ক্যামেরা লাগানো আছে এবং সব কিছু রেকর্ড হচ্ছে খবরটি জানার পর ছিঁচকে চোররা তার দোকানে আর আসে না।

সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত এবং গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও এই ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এতে করে কারোরই বেশি লোকের প্রয়োজন হচ্ছে না।  

সালিমার সুপার মার্কেটের এক কাপড়ের ব্যবসায়ী বলেন, সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে দোকানের নিরাপত্তার পাশাপাশি তিনি এক জায়গা থেকে দুইটি দোকান পরিচালনা করতে পারছেন। এজন্য তার অতিরিক্ত কোন কর্মচারীর প্রয়োজন হয় না।

তিনি বলেন, বিশেষ করে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এই ক্যামেরার প্রয়োজন আছে।
আইটি বিশেষজ্ঞ শহরের সালিমার সুপার মার্কেটের অ্যাডভান্সড কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী রেজাউল করিম জেমস বলেন, সিসি ক্যামেরা সহজ লভ্য হলে এর ব্যবহার আরো বাড়বে। সিসি ক্যামেরা সম্পর্কে সব শ্রেণি পেশার মানুষ এখন অনেকটাই সচেতন। তবে ইচ্ছা থাকলেও দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় অনেকেই ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, দাম কমানো হলে সব ধরনের মানুষ তাদের প্রয়োজনে এই ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারবেন।

গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন বলেন, অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিসি ক্যামেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি সকল অফিস আদালতের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্পটসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন বাসাবাড়ি বা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিসি ক্যামেরা থাকলে অপরাধ প্রবণতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গাইবান্ধায় ব্যাংক-বীমা, বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতসহ প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।

এমএএস/আরআইপি


পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।