আধুনিক নৌ-বন্দরের দ্রুত বাস্তবায়ন চায় লক্ষ্মীপুরবাসী


প্রকাশিত: ০৭:২৩ এএম, ২৩ এপ্রিল ২০১৭

লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর হাটে হচ্ছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও আধুনিক নৌ-বন্দর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে এসে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গেছেন। এতে আনন্দের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে মানুষের মনে। পরিকল্পিত এ বন্দর নির্মিত হলে অবহেলিত এ জনপদের মানুষের জীবনযাত্রার মানের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।

এদিকে লক্ষ্মীপুরবাসীর দাবি, এ নৌ-বন্দরের দ্রুত বাস্তবায়ন চায় তারা। এতে এ জেলার সঙ্গে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা বিভাগের মানুষের যোগাযোগের সেতুবন্ধন সৃষ্টি হবে। প্রসার ঘটবে কোটি মানুষের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের। মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকার সমস্যা লাঘব হবে।

laksmipur

মজু চৌধুরীর হাট ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, সরকার নৌ-বন্দর নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ করবে। তারাও রাজি বন্দর নির্মাণে সহযোগিতা করার জন্য। এ জন্য তাদের বসবাসের জমি ও স্থাপনার বর্তমান বাজারমূল্য পেতে চান। পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে পুনর্বাসনের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে মজু চৌধুরীর হাটের অবস্থান। নৌ-পথে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ২১টি জেলার যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র এটি। মেঘনাপাড়ের এ জনপদের অধিকাংশ মানুষই কৃষিনির্ভর। ব্যবসা-বাণিজ্যে তারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। এখানে বন্দর নির্মিত হলে অবকাঠামোর পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে।

laksmipur

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও আধুনিক নৌ-বন্দর নির্মাণে হবে মজু চৌধুরীর হাটে। তবে কত টাকা ব্যয়ে, কী পরিমাণ জায়গায় এবং কবে নাগাদ নির্মাণ কাজ শুরু হবে তা নিশ্চিতভাবে এখনও বলা যাচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুর জজ কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মৃধা বলেন, মজু চৌধুরীর হাটে নৌ-বন্দর নির্মাণ দীর্ঘদিনের দাবি। ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপনের মধ্যদিয়ে আমরা আশার আলো দেখছি। এখানে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও আধুনিক নৌ-বন্দর নির্মাণের খবরে মানুষ খুশি।

laksmipur

জেলা বণিক সমিতির ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক ও বিশেষ সম্পাদক সৈয়দ এহতেশাম হায়দার বাপ্পি বলেন, বণিক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে নৌ-বন্দর নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিল। এখন আমরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বন্দর নির্মাণের বাস্তবায়ন চাই। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখেই একসময় মজু চৌধুরীর হাটে ফেরিঘাট স্থাপন করা হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, লক্ষ্মীপুরে নৌ-বন্দর নির্মিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের ব্যাপক পরিবর্তন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে। দ্রুত এ বন্দর নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলাবাসী দাবি জানাচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনি এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এতে জেলার মানুষ আনন্দিত।

laksmipur

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোহাম্মদ নোমান বলেন, এ বিষয়ে নৌমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সরকার আধুনিক নৌ-বন্দর নির্মাণ প্রকল্পের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই কাজটি শুরু করা হবে আশা করছি।

এ বিষয়ে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, মজু চৌধুরীর হাটে দেশের আধুনিক নৌ-বন্দর নির্মাণ হবে। ইতোমধ্যে সেখানে অবকাঠামো তৈরি, রাস্তা ও টার্মিনালকে সুন্দরভাবে নির্মাণের করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় টাকা বরাদ্দ পেলে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।

laksmipur

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৪ মার্চ লক্ষ্মীপুরে এসে মজু চৌধুরীর হাট নৌ-বন্দরসহ ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেছিলেন। এ সময় তিনি আরও ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।

কাজল কায়েস/বিএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।