ভালো দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট তরমুজ চাষিরা
টানা বর্ষণ আর জোয়ারের পানিতে বেশ কিছু এলাকার তরমুজ নষ্ট হয়ে গেলেও পটুয়াখালীর বাজারে এ বছর তরমুজের দাম গত বছরের চেয়ে বেশি। দাম বেশি পাওয়ায় সন্তুষ্ট তরমুজ চাষিরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর পটুয়াখালীতে প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের তরমুজ চাষ হয়েছিল। চলতি বছরে এর পরিমাণ ১৮ হাজার হেক্টরের বেশি। এ অঞ্চলে তরমুজ চাষ উপযোগী মাটি ও পরিবেশ রয়েছে। ফলনও ভালো হয়। ফলে তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
তবে চলতি বছরে টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে কৃষকরা কিছুটা হলেও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় বাজারে ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের ১০০ পিস তরমুজ পাইকারী বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর খুচরা বাজারে প্রতি পিস তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। ৮ থেকে ৯ কেজি ওজনের ১০০ পিস তরমুজ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা। আর খুচরা প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। ৬ থেকে ৭ কেজি ওজনের তরমুজ ১০০ পিস তরমুজ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা। আর খুচরা প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। ৩ থেকে ৪ কেজি ওজনের ১০০ পিস তরমুজ পাইকারী বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা। আর খুচরা প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২৫ টাকায়।
শহরের নিউ মার্কেটের আছলাম আড়তের ম্যানেজার হাসান জাগো নিউজকে বলেন, এ বছর টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে অনেক এলাকার তরমুজ নষ্ট হয়ে গেছে। এরপরও আমাদের আড়ত অনেক তরমুজ বিক্রি করছে। এ বছর ফলন কম হলেও কৃষক দাম ভালো পেয়েছে।

আছলাম আড়তে তরমুজ বিক্রয় করতে আসা রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে চরলক্ষ্মী গ্রামের সেলিম হাওলাদার বলেন, এ বছর এক একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। এক লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত এক লাখ টাকা বিক্রি করেছি। আজ আড়তে যে তরমুজ এনেছি তা বিক্রি করে মনে হয় সমান সমান থাকতে পারবো।
শহরের নিউ মার্কেট এলাকার মৌসুমী তরমুজ ব্যবসায়ী বিরেন পাল জাগো নিউজকে বলেন, পাইকারী বাজারে তরমুজের দাম অনেক বেশি তাই বেশি দামে বিক্রি করছি।
শহরের নিউ মার্কেট এলাকায় তরমুজ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী বেলায়েত হোসেন জানান, গত বছরের চেয়ে এ বছর তরমুজের দাম বেশি।
পটুয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসার অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম মাতব্বর জাগো নিউজকে বলেন, তরমুজের সাইজ কিছুটা ছোট হলেও বাজর দর ভালো থাকায় কৃষক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। তবে বিগত বছরগুলোর মতো বেশি লাভ করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী জেলায় বর্তমানে ড্রাগন, বিগ ফ্যামিলি, ওয়াল কুয়িন, গ্লোরি, জাম্বু ও এশিয়ান-২ জাতের হাইব্রিড তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/আরএআর/পিআর