হাওরে থামছে না কৃষকের হাহাকার


প্রকাশিত: ০৮:২৯ এএম, ২৯ এপ্রিল ২০১৭

কিশোরগঞ্জে নতুন করে কোনো হাওর এলাকা প্লাবিত না হলেও থামছে না কৃষকের হাহাকার। এরই মধ্যে ভাটির পর ডুবে গেছে অনেক উজান এলাকার ধান। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।

জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১০টি উপজেলার অন্তত ৯০ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দেড়লাখ কৃষক। সরকারি হিসেবে ৮শ কোটি টাকার ক্ষতি হলেও প্রকৃতপক্ষে এর পরিমাণ হাজার কোটির বেশি বলে দাবি কৃষকদের।

আবহাওয়া কিছুটা ভালো হওয়ার পর হাওরের কৃষকরা পানির নিচ থেকে কেটে আনা আধাপাকা ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রায় এক সপ্তাহ টানা বৃষ্টিতে এগুলোও পচে গেছে। তাই বাড়তি টাকা খরচ করে মাঠ থেকে কেটে আনা ধান কৃষকের যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ দিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সরকারি ত্রাণ বিতরণ শুরু হলেও চাহিদার তুলনায় তা অনেক কম।

Kishorganj

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত সাড়ে ৫শ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। হাওরে ৫০ হাজার কৃষককে ৩ মাসের ভিজিডি চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দিতে হাওরের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম চলছে। হাওরে মানুষের খাবারের পাশাপাশি পশুখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

হাওরের কৃষকদের দাবি- এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি অবস্থায় ত্রাণ তৎপরতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে নেয়া কৃষি ঋণ মওকুফ ও কিস্তির টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে হাওরে বিভিন্ন জলায়শয়গুলোর লিজ বাতিল করে এগুলো জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

জেলার বিভিন্ন হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, বড় বড় হাওরগুলো আগেই তলিয়ে গেছে। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অপেক্ষাকৃত উঁচু জমির কাঁচা-পাকা ধান কেটে ফেলেছেন কৃষকরা। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কেটে নেয়া ধানও পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

কৃষকের ঘরে খাবার নেই। ফসল ডুবে যাওয়ায় চালের দাম বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। অপরদিকে হাওরের জলমহালগুলো প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় হাওরবাসী মাছ ধরতে পারছে না। এ অবস্থায় খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছে হাওরবাসীর। হাওরের অনেক মানুষ সম্ভাব্য বিপদের আঁচ করতে পেরে এলাকা ছেড়ে কাজের সন্ধানে ঢাকায় চলে যাচ্ছেন।

Kishorganj

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত জেলার অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনা, করিমগঞ্জ, নিকলী,বাজিতপুর, ভৈরব, তাড়াইল, হোসেনপুর ও কটিয়াদী উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমির ধানের ক্ষতি হয়েছে। যা থেকে দুই লাখ আট হাজার ৩৪১ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হতো। আর এসব চালের বাজার মূল্য হচ্ছে ৮১৭ কোটি ৩৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা।

সরকারি হিসেবে হাওরে এক লাখ ৪০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা হবে দুই লাখেরও বেশি। তবে মাত্র ৫০ হাজার কৃষককে সরকারের বিশেষ খাদ্য সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। তাদের আগামী তিন মাস ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হবে।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দীন বিশ্বাস জানান, এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সাড়ে ৫শ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থেকে সরকার সব ধরনের সহযেগিতার উদ্যোগ নিয়েছে। ৫০ হাজার মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি আরও এক লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাওরের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে ওএসমএস ডিলারের মাধ্যমে ১৫ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এনজিওর ঋণের কিস্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামী ফসল উঠার আগ পর্যন্ত হাওরবাসীকে খাদ্য সহায়তা ও কৃষিতে সহযোগিতা করা হবে।

আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।