ওয়াকিটকির অভিনব প্রতারণা


প্রকাশিত: ১২:২৯ পিএম, ০২ মে ২০১৫

সিরাজগঞ্জ শহরের বড় বাজারে হাজির হন এক ব্যক্তি। পায়ে পুলিশের বুট, চোখে কালো চশমা, হাতে ওয়াকিটকি। আর পরনে শার্ট-প্যান্ট। এসময় তার প্রতি অনেকেরই দৃষ্টি আর্কষন করে।

বাজার চলাকালে প্রথমেই তিনি বড় বাজারের মুদী দোকান বিসমিল­াহ স্টোরে ঢোকেন। সেখানে দোকানের মালিক মজনুর হাতে তিনি ধরিয়ে দেয় মালামালের বিশাল একখানা ফর্দ। যার মূল্য প্রায় ৮ হাজার টাকা। এসময় ওই ব্যক্তি জানায়, এই মালগুলো তার স্যারের। যে কারণে আলাদা একটি ফর্দি করে তাতে মালামালের দাম একটু বেশি করে লিখে দিতে হবে এবং উদ্বৃত্ত টাকাটা তাকে নগদ দিতে হবে। বাধ্য হয়ে দোকানি নতুন ফর্দ করে উদ্বৃত্ত ৮শ টাকা তার হাতে ধরিয়ে দেন।

এসময় ওয়াকিটকিতে তিনি কথাও বলেছেন বলে জানালেন দোকানদার মজনু।

এরপর মুদি দোকানিকে বলেন, মালামাল কিছুক্ষণ পরে নিয়ে যাবে। এবার মাছ বাজারে ঢোকেন তিনি। সেখানে ২৮০ টাকা কেজি দরে ২৭ কেজি রুই মাছের দাম করে তা কেটে দিতে বলেন। এরপর তিনি মাংস বিক্রেতা টুটুলের দোকানে গিয়ে ২৫ কেজি খাসির মাংস দরদাম করে তা কেটে রাখতে বলেন। একইভাবে তিনি মুরগী বিক্রেতা এরশাদের কাছে গিয়ে ২৫টি মুরগী জবাই করে মাংস প্রস্তুত করতে বলেন। এসময় তিনি কথিত স্যারের কথা বলে অতিরিক্ত দাম উল্লেখ করে একই কায়দায় মাছের দোকানির কাছ থেকে ৬শ, মাংসের দোকানের কাছে ৮শ এবং মুরগী বিক্রেতার কাছ থেকে ৮শ টাকা নিয়ে খানিক পরেই আসবে বলে জানায়। কিন্তু, সে আর ফিরে আসেনি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বিষয়টি প্রকাশ পায় দোকানদারদের মাঝে। কিন্তু, ততক্ষণে কথিত ওয়াকিটকি ধারী আর নেই।

মাছ বিক্রেতা আব্দুল হাকিম জানান, ৮শত টাকার শোক সামাল দেয়া সম্ভব। কিন্তু, ৮ হাজার টাকার মাছ কেটে নষ্ট হয়ে যাওয়ার শোক সামাল দেয়া কঠিন। এই মাছ পরে তিনি পরিচিতজনদের কাছে কমদামে বিক্রি করেছেন।

একইভাবে আক্ষেপের কথা জানালেন খাসির মাংস বিক্রেতা টুটুল এবং মুরগী বিক্রেতা এরশাদ মিয়া।

তারা জানালেন, তাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে এই ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।

বাদল ভৌমিক/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।