এক মাসেও শুরু হয়নি বিদ্যুৎ টাওয়ারের কাজ
ভৈরবে নতুন বিদ্যুৎ টাওয়ারের কাজ একমাসেও শুরু হয়নি। গত ১ মে রাতে বৈশাখী ঝড়ে শহরের কালীপুর এলাকায় মেঘনা নদীর পাড়ে ২৩০ কেভি আশুগঞ্জ-সিরাজগঞ্জ সঞ্চালন লাইনের বিদ্যুতের টাওয়ারটি ভেঙে যায়। ফলে এদিন সিরাজগঞ্জসহ সারাদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে।
ঝড়ের তাণ্ডবে আশুগঞ্জ চরের টাওয়ারটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুতের ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইনের তারগুলো ভৈরবে মেঘনা নদীতে ছিটকে পড়ে যায়। পরে জাতীয় গ্রিড লাইনের কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
গত ৫ মে বিদ্যুৎসচিব ড. আহমেদ কায়কাউজ, জাতীয় গ্রিড লাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বিরুনীসহ ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে তারা জানান, ভেঙে যাওয়া টাওয়ারটি এক সপ্তাহের মধ্য সরানো হবে। কিন্তু একমাস অতিবাহিত হলেও গতকাল বুধবার পর্যন্ত বিধ্বস্ত টাওয়ার পুরাপুরি সরানো সম্ভব হয়নি।
প্রায় ৩০০ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন এই টাওয়ারটি ২০০৮ সালে ভৈরব এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছিল। আশুগঞ্জ-সিরাজগঞ্জ সঞ্চালন লাইনটির দূরত্ব ১৪২ কিলোমিটার বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
বর্তমানে জাতীয় গ্রিড কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় অন্য লাইন দিয়ে আশুগঞ্জ থেকে সিরাজগঞ্জ লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করলেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এদিকে ভৈরব টাওয়ারটি ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়াই নুতন টাওয়ার নির্মাণে ব্যালেন্স ঠিক রাখতে আশুগঞ্জ টাওয়ারটিও নুতনভাবে নির্মাণ করতে হবে বলে প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন।
জাতীয় গ্রিড লাইনের প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান বুধবার এই প্রতিনিধিকে বলেন, বিধ্বস্ত টাওয়ারটি সরাতে ঠিকাদারের ৫৭ জন শ্রমিক একমাস ধরে কাজ করছে। টাওয়ারটির ওজন প্রায় ৩০০ টন। টাওয়ারের নাট-বল্টু খুলে লোহা সরানো কঠিন কাজ। তবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই টাওয়ার সরানোর কাজ শেষ হবে বলে আরাফাত ট্রেডার্স ঠিকাদার কোম্পানির এমডি আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন। তারপর মাটিতে কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে।
জাতীয় গ্রিড লাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুম আল বিরুনী জানান, ভৈরবের এই বিধ্বস্ত টাওয়ারটি নুতন করে নির্মাণের জন্য কুরিয়ার একটি কোম্পানিকে কাজ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আশুগঞ্জ টাওয়ারটিও এই কোম্পানি নুতন করে নির্মাণ করবে। টাওয়ারের যন্ত্রাংশ কুরিয়া থেকে আমদানি করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে তিনি জানান।
বিদ্যুৎ সচিব গত ৫ মে ভৈরবে পরিদর্শনে এসে বলেছিলেন বিধ্বস্ত টাওয়ারটি এক সপ্তাহের মধ্য সরিয়ে ফেলা হবে এবং টাওয়ারটি পুনর্নির্মাণ করতে প্রায় তিনমাস সময় লাগতে পারে।
আসাদুজ্জামান ফারুক/এএম/জেআইএম