মেধাবী রূপার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিলেন সাংবাদিক রুবিনা


প্রকাশিত: ০৭:৫০ এএম, ২১ জুন ২০১৭

অর্থাভাবে বন্ধ হতে বসা টাঙ্গাইলের হতদরিদ্র পরিবারের মেধাবী ছাত্রী রূপা আক্তারের পড়ালেখার দায়িত্ব নিলেন সাংবাদিক রুবিনা ইয়াসমিন। এ দায়িত্ব নেয়ায় উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে পড়তে যাওয়া থেকে রক্ষা পেল রূপা।

কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার আলমদি গ্রামের মরহুম পিন্টু মিয়ার মেয়ে সাংবাদিক রুবিনা ইয়াসমিন স্যাটেলাইট টেলিভিশন আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার পদে কর্মরত।

জানা যায়, বহুলপঠিত জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে এ গত ১০ মে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা প্রতিনিধি এস এম এরশাদের পাঠানো মানবিক আকুতির প্রতিবেদন ‘লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রূপা’ প্রকাশ হয়।

রূপা আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়ন ও গ্রামের দরিদ্র দিনমজুর লিয়াকত আলীর মেয়ে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, স্থানীয় গেড়ামারা গোহাইলবাড়ী সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।

এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ভালো ফল করেও অর্থাভাবে হতদরিদ্র পরিবারের এই ছাত্রীর কলেজে ভর্তি নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়।মেধাবী রূপার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে সাড়া দিয়েই জাগোনিউজের পাঠক ও সাংবাদিক রুবিনা ইয়াসমিন রূপার পড়াশোনার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। অনুপ্রাণিত হন মেয়েটির শিক্ষাগ্রহণের এই মানবিক আকুতিতে।

রূপার পড়ালেখার দায়িত্ব গ্রহণে এগিয়ে আসেন তিনি। পরবর্তীতে জাগোনিউজের প্রধান কার্যালয় থেকে টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধির মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

সাংবাদিক রুবিনার এ দায়িত্ব গ্রহণ আর সহযোগিতায় পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার শঙ্কামুক্ত হয়ে মেধা তালিকায় মঙ্গলবার রূপা ভর্তি হয়েছেন টাঙ্গাইল কুমুদিনী সরকারি মহিলা কলেজে। পেয়েছেন আবাসিক হোস্টেলে থাকারও নিশ্চয়তাও।

উচ্ছ্বসিত রূপা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, আমার বাবা লিয়াকত আলী স্থানীয় ইটভাটায় দিনমজুরের কাজ করেন। পরিবারের সদস্য সংখ্যা আটজন।। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে রূপা দ্বিতীয়। তার বাবা দাদি, মা, ও পাঁচ ভাই-বোন নিয়ে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন।

‘দরিদ্রতার কারণে কোনো কলেজে ভর্তি হতে পারবো কিনা- এ নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু এই সহযোগিতায় ভালো কলেজে ভর্তি হতে পেরেছি।এ জন্য আমি অনেক খুশি।’

তিনি জানান,কলেজে ভর্তি ফিসহ হোস্টেল চার্জবাবদ প্রায় ১০ হাজার টাকা লেগেছে। পুরো টাকাই দিয়েছেন সাংবাদিক রুবিনা আপা। তার আর্থিক সহায়তায় আমার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আগামীতে পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়ে ভালো ফলাফল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রূপা।

এ বিষয়ে সাংবাদিক রুবিনা ইয়াসমিন বলেন,সংবাদের শিরোনাম হতে মেয়েটির পাশে দাঁড়াইনি। সম্পূর্ণ সামাজিক দায়বদ্ধতা আর মূল্যবোধ থেকেই এই এগিয়ে আসা।

‘আমি চাই ক্ষুদ্র সহযোগিতার মাধ্যমে সামাজিক কিছু পরিবর্তন। ভবিষ্যতেও নিজ জায়গা থেকে আরও ঝড়ে পড়া এমন শিশুদের পাশে দাঁড়াতে চাই।’

এমএমএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।