স্বামীর খবর শুনেই অজ্ঞান এরশাদের স্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৩:১৬ পিএম, ২৯ জুলাই ২০১৭

সৌদি আরবে নিহত প্রবাসীদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তাদের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে আকাশ বাতাস।

সৌদি আরবে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দাম্মাম ও আলজুব আরা শহরের মাঝামাঝি স্থানে দুটি প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়। এদের মধ্যে গোয়ালন্দ এলাকার দুজন আপন ভাইও রয়েছেন।

নিহতরা হলেন গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের পূর্ব উজানচর দরাপের ডাঙ্গী এলাকার ওহেদ বেপারীর ছেলে এরশাদ বেপারী (২৮) ও হুমায়ন বেপারী (২৩), দক্ষিণ নাছের মাতব্বর পাড়ার ওসমান খানের ছেলে কোব্বাত খান (২৩) ও দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর দৌলতদিয়া আনছার মাতব্বর পাড়ার ছাহের মন্ডলের ছেলে মিরাজ মন্ডল (২২)।

অপর দুজন হলেন ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের আরান দেওয়ান ডাঙ্গীর আরান দেওয়ানের ছেলে ইদ্রিস দেওয়ান (৩২) ও সদরপুর উপজেলার হাজীগঞ্জ এলাকার শহীদ।

বাংলাদেশে স্বজনরা স্থানীয় সময় শনিবার দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন। এরপর থেকেই কান্নার রোল উঠেছে নিহতদের বাড়িতে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত এরশাদ মাত্র ৬ মাস আগে বিয়ে করে সৌদিতে যান। কিছুক্ষণ পরপরই মুর্ছা যাচ্ছেন তার সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী।

শনিবার সরেজমিনে পূর্ব উজানচরের নিহত দুই ভাই এরশাদ ও হুমায়নদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে এক হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনদের আহাজারিতে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।

এ সময় দুই সন্তান হারানো ওহেদ বেপারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সৌদিতে কর্মরত এলাকার অন্যদের কাছ থেকে তারা এ দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন। পরে তাদের ফেসবুকের মাধ্যমে দুর্ঘটনার বিষয়টি আরও নিশ্চিত হন।

তিনি জানান, তার বড় ছেলে বিগত নয় বছর ধরে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরে থেকে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করত। গত বছর ডিসেম্বর মাসে দেশে এসে বিয়ে করে। দুই মাস পর সে ফিরে গিয়ে ছোট ভাই হুমায়নের জন্য ভিসা পাঠিয়ে ওকেও নিয়ে যায়।

তিনি বুক চাপড়ে বলেন, এতো বড় শোক আমি কীভাবে সহ্য করব। এ সময় এরশাদের স্ত্রী শিউলী আক্তার ও বৃদ্ধ মা কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ দৃশ্য আশপাশের সবার চোখে পানি চলে আসে।

নিহত কোব্বাত খাঁর বাবা ওসমান খাঁ জানান, তার ছেলেকে প্রথমে লিবিয়া পাঠিয়েছিলেন। সেখানে প্রতারিত হয়ে ছেলে দেশে ফিরে আসে। এরপর ৮-৯ মাস পূর্বে ধার-দেনা করে প্রায় ৮ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে পাঠান। ছেলে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকা পঠিয়েছে। টাকাগুলো পাওনারদের পরিশোধ করেছি। এখনো ৭ লাখ টাকার উপর দেনা আছি। এ অবস্থায় আমার দেনাও পরিশোধ হলো না। ছেলেকেও হারালাম। তার আহাজারিতে উপস্থিত শত শত মানুষের চোখে জল চলে আসে।

মিরাজের বাবা ছাহের মন্ডল জানান, আট মাস আগে বহু ধার দেনা করে ছেলেকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম। আশা ছিল ও ঠিকমতো আয় রোজগার করতে পারলে ধীরে ধীরে ধার দেনা পরিশোধ করে দেব। সংসারেও স্বচ্ছলতা আসবে। কিন্তু আমার সব শেষ হয়ে গেল।

এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।