নির্যাতন সইতে না পেরে মা হত্যার দায় নিল ছেলে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী
প্রকাশিত: ০৯:১৭ পিএম, ১২ আগস্ট ২০১৭
নির্যাতন সইতে না পেরে মা হত্যার দায় নিল ছেলে

নরসিংদী শহরের মধ্য কান্দাপাড়ায় গৃহবধূ দীপ্তি রানী ভৌমিককে (৪৫) গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তারই ছেলে প্রিতম ভৌমিককে নির্যাতন করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে বলে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন প্রিতমের বাবা।

তিনি জানিয়েছেন, বিনা মামলায়, বিনা ওয়ারেন্টে বিনা দোষে তার ছেলে প্রিতম ভৌমিককে থানায় নিয়ে পা ওপরে ঝুলিয়ে চারদিন লটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশ।

থানায় প্রিতমকে লোহা এবং কাঠের রোল দিয়ে পিটিয়ে সারা শরীর তুলাধুনা করে দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রিতমের সারা শরীরে ইলেকট্রিক শক দেয়া হয়েছে। পরে প্রিতমকে আদালতে দাঁড়িয়ে মা দীপ্তি ভৌমিককে সে নিজে হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ।

ছেলের ওপর পুলিশি নির্যতনের বর্ণনা দিয়ে শনিবার রাতে নরসিংদী প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রিতমের বাবা।

তিনি বলেন, আদালতে স্বীকারোক্তি না দিলে প্রিতমকে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। স্কুলছাত্র প্রিতম পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে আদালতে দাঁড়িয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয়েছে। সেই সঙ্গে পুলিশি নির্যতান সইতে না পেরে মাকে হত্যার দায় কাঁধে তুলে নেয় ছেলে।

তিনি জানিয়েছেন, এই ঘটনার পর তিনি প্রিতমকে আদালতে হাজির করে তাকে মেডিকেল পরীক্ষার আবেদন জানালে আদালত প্রিতমের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দিতে প্রিতম তার ওপর পুলিশি নির্যাতনের কাহিনী আদালতের সামনে প্রকাশ করেন।

dipti-bowmik

এর প্রেক্ষিতে আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তাক আহমেদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ ধারা ২ উপধারা ৮ অনুযায়ী মামলা গ্রহণ করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে আদালত প্রিতমকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেহ পরীক্ষার আদেশ দেন এবং একটি রিপোর্ট তৈরি করে আদালতে দাখিল করার নরসিংদী সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেয়া হয়।

পাশাপাশি এই রিপোর্ট অভিযোগকারী বা তার মনোনীত ব্যক্তিকে আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেন। প্রিতমকে তাৎক্ষণিকভাবে সিভিল সার্জন বরারব উপস্থাপনের জন্য কোর্ট ইন্সপেক্টরকে নির্দেশ দেন এবং নরসিংদী পুলিশ সুপারকে মামলার নির্দেশ দেয়া হয়। আদেশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ৪৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দেয় আদালত।

কিন্তু পুলিশ আদালতের নির্দেশ যথারীতি না মেনে সাক্ষীদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে সাক্ষীদের ডেকে নিয়ে আদালতে প্রিতমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

পুলিশের কথা মতো প্রিতমের বিরুদ্ধে সাক্ষী না দিলে তাদের অস্ত্রসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠানো হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে সাক্ষীরা অভিযোগ করেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে প্রিতমের বোন প্রিয়াঙ্কা ও তার স্বামী নয়ন সাহা সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন। তারা আদালতে রায় কার্যকর, প্রিতমের মুক্তি এবং দীপ্তি ভৌমিকের প্রকৃত হত্যাকারীদের খোঁজে বের করে আদালতে সোপর্দ করার জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।

সঞ্জিত সাহা/এএম/জেআইএম