রহস্যে ঘেরা স্কুলছাত্রী শারমিন হত্যাকাণ্ড
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এক স্কুলছাত্রীর হত্যাকাণ্ড ঘিরে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৬ জুলাই নিজ ঘরে খুন হওয়া উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মহিবুর রহমান তাউসের মেয়ে শারমিন আক্তার (১৪) হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন রয়েছে।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শারমীনের বাবা তাউস বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সব আসামিরাই তাউস মিয়ার প্রতিবেশী।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই তাউস মিয়ার পক্ষের লোকজন আসামি শুক্কুর আলীর ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে লুটপাট চালায়। হামলার সময় পিটিয়ে বের করে দেয়া হয় বাড়ির নারী ও শিশুদের। বর্তমানে শুক্কুর আলীসহ ৫/৬টি পরিবারের লোকজন গ্রামছাড়া।
হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়, জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে শারমীনকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার দিন (২৬ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে তাউস মিয়া ও তার স্ত্রী মিনা আক্তার প্রতিপক্ষের একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে যান। এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বৃদ্ধ শুক্কুর আলীর নেতৃত্বে আসামিরা ঘরে ঢুকে শারমিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে শুক্কুর আলীর ছেলে ছোট্ট মিয়াকে (৩০)। শারমিন হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্তদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে লুটপাট চালায় তাউস মিয়ার পক্ষের লোকজন।
এদিকে ছোট্টন মিয়ার স্ত্রী ছালেহা বেগম বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৮/১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়, ছালেহার ভাসুর কাদির মিয়ার শিশু পুত্র জুনায়েদকে গত ৬ এপ্রিল পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করে প্রতিপক্ষের লোকজন। তাউস মিয়া কোদাল দিয়ে জুনায়েদের পায়ের ২টি আঙ্গুল কেটে দেন।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্কুর মিয়া ও তাউস মিয়ার পরিবারের মধ্যে বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। শুকুর আলীর পরিবারের লোকজনের দাবি তাদেরকে ফাঁসানোর জন্যই পরিকল্পিতভাবে শারমিনকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় ছোট্টন মিয়া স্থানীয় লক্ষীপুর বাজারে ছিলেন বলেও দাবি করেন তারা। শুক্কুর মিয়াসহ অন্য আসামিরা মামলার প্রয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আদালতে ছিলেন। অন্য আসামিরা আগে থেকেই তাদের ব্যবসাস্থল সিলেটে ছিলেন।
বৃদ্ধ শুক্কুর আলী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমাদের পরিবারের কেউই জড়িত নয়। পরিকল্পিতভাবে আমাদের ফাঁসানোর জন্য এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের বিচার দাবি করছি।
হত্যা মামলার বাদী তাউস মিয়া জানান, ঘটনার সময় তিনি ও তার স্ত্রী আদালতে ছিলেন। পাশের গ্রামের তার ফুফাতো ভাই মোখলেছ ও তার স্ত্রী এবং আরেক ফুফাতো ভাই লিটনকে বাড়িতে রেখে এসেছিলেন। তিনি আদালত থেকে বাড়িতে এসে শুনেছেন শুক্কুর আলী ও তার পরিবারের লোকজন তার মেয়েকে হত্যা করেছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জিয়া বলেন, দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছে। এক পক্ষ-আরেক পক্ষকে ফাঁসাতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে একের পর এক মামলা করছেন। তার ধারণা এ ঘটনায় তৃতীয় কোনো পক্ষ জড়িত।
হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নাসিরনগর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল ওহাব জানান, ঘটনাটি রহস্যজনক। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্ত অনেকে এলাকায় ছিলেন না বলে প্রতিয়মান হয়।
আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/আইআই