সকালে স্বাভাবিক, বিকেল থেকে তীব্র যানজট

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০২:০৯ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০১৭

সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের কোনাবাড়ি-চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের গতি অনেটা স্বাভাবিক থাকলেও বিকেলে তার চিত্র পাল্টে যায়।

বিকেলে ওই পথের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের কবলে পড়ে শতশত যানবাহনের হাজার হাজার যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে গাজীপুর জেলা শহহর থেকে কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে গাড়ি চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক ছিল।

কিন্তু দুপুর আড়াইটার দিকে চন্দ্রার পর থেকেই যানজট শুরু হয়। চন্দ্রা থেকে জেলা শহরে পৌঁছাতে আধা ঘণ্টার পথ যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা লেগেছে।

পাশপাশি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির পানি জমে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ মেরামত কাজ করার সময় যান চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

বাসচালক এমারত হোসেন জানান, গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লাগছে কালিয়াকৈরের সফিপুর পর্যন্ত আসতে। ভাঙা সড়কে যানবাহন চলাচল করতে বিঘ্ন ঘটছে। সড়কের অনেক স্থানে মেরামত কাজ চলছে। ওসব স্থানে গাড়ি বন্ধ করে বসে থাকতে হয়।

dhaka

কাভার্ডভ্যান চালক ফিরোজ মিয়া জানান, সড়কে বিভিন্ন স্থানে হাইওয়ে পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও তারা ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে না। তারা যদি সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতো তাহলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো না।

শুক্রবার সকালে চন্দ্রা এলাকায় যানজট পরিস্থিতি দেখতে এসে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ঈদ উপলক্ষে গাজীপুরে যানজট নিরসন করতে মহাসড়কে এক হাজার ২০০ পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। মহাসড়কে গরুর হাটও বসতে দেয়া হয়নি। তাদের কাজ নজরদারিতে রাখতে চন্দ্রা, চান্দনা-চৌরাস্তা, স্টেশনরোডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। গত ঈদের মতো এ ঈদেও যানজট হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সালনা হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হোসেন সরকার জানান, বৃষ্টি ও মহাসড়কে স্থানে স্থানে খানাখন্দ থাকায় এবং বিকেলে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে কোনাবাড়ী থেকে সফিপুর পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সড়ক মেরামত করতে গিয়েও যান চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। তবে পুলিশ যানজট নিরসনে কাজ করছে।

এছাড়া বিকেলের দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার পথের বিভিন্ন স্থানে জানজটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, টঙ্গী থেকে ভোগড়া বাইপাস আসতে সময় লেগেছে দুই ঘণ্টা। তবে রাস্তায় যানবাহন কম থাকায় নিত্য দিনের মতো দীর্ঘ যানজটে বসে থাকতে হয়নি।

কিন্তু রাস্তা খানাখন্দ থাকায় যানবাহন চলছে ধীর গতিতে। সড়ক বিভাগের লোকজন রাস্তা মেরামত করলেও বৃষ্টি হলেই রাস্তা ফের নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক ঘণ্টা আগে রাস্তার যে অংশ মেরামত করা হচ্ছে বৃষ্টি হলে এক ঘণ্টা পরেই রাস্তা পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাচ্ছে।

গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ডিএকেএম নাহীন রেজা জানান, রাস্তা সচল রাখতে সড়ক বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে। যেখানে খানাখন্দ সৃষ্টি হচ্ছে আমাদের লোকজন দ্রুত সেই স্থান মেরামত করে ফেলছে। তবে বৃষ্টির কারণে মাঝে মধ্যে কাজের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।

মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।