পাবনার পশুহাটে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতা বেশি
কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দেশি গরুতে বৃহত্তর পাবনা (পাবনা ও সিরাজগঞ্জের) পশুর হাটগুলো জমে উঠেছে। এসব হাটে পাবনা ব্রিড, অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ান ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড জাতের বড় বড় ষাঁড়সহ মাঝারি ও ছোট আকারের প্রচুর দেশি গরু আমদানি হয়েছে।
পাশাপাশি সীমান্ত পথে বানের পানির মতো ভারত, ভুটান ও নেপালি গরু ও মহিষ দেশে প্রবেশ করছে। পাবনা ও সিরাজগঞ্জের হাটগুলোতে ক্রেতার চেয়ে পশুর আমদানি বেশি হওয়ায় দামে ধসে নেমেছে। ফলে এ অঞ্চলের হাজার হাজার খামারি ও গরু ব্যবসায়ী ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়ছেন।
গরু ব্যবসায়ীরা জানান, পাবনার বেড়ার সিঅ্যান্ডবি চতুর হাট, সাঁথিয়ার ধূলাউড়ি হাট, আতাইকুলার পুষ্পপাড়া হাট, ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া ও অড়োনকোলা হাট, চাটমোহরের অমৃতকুন্ডা, সিরাজগঞ্জের তালগাছি হাট, উল্লাপাড়ার গোয়ালিয়া হাট, গ্যাসের হাট, তারাশ চলনবিল এলাকার নওগাঁ হাট, এনায়েতপুর হাট, বেলকুচির সমেশপুর পশুর হাটে বিপুলসংখ্যক দেশি গরু-মহিষ, ভেড়া ও ছাগল আমদানি হয়েছে।
কিন্তু সে তুলনায় হাটে ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক খামারি ও চাষি আশানুরূপ দামে বিক্রি করতে না পারায় গবাদি পশু বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এ অঞ্চলের খামারি ও চাষিরা এবং মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীরা প্রতি বছর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে অন্তত ২ লাখ গরু-মহিষ সরবরাহ করেন।
এবার হাটে দেশি গরুর প্রচুর আমদানি হচ্ছে। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভারত, ভুটান ও নেপালি গরু-মহিষের আমদানিও দিন দিন বাড়ছে।
দেশি ক্রস পাবনা ব্রিড, অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান ব্রিড, ইন্ডিয়ান হরিয়ান ব্রিড, পাকিস্তানি সাহিয়াল ব্রিড জাতের বড় বড় ষাড়সহ মাঝারি ও ছোট আকারের প্রচুর দেশি গরু আমদানি হচ্ছে। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে খুবই কম।

ব্যবসায়ীরা জানান, এই জাতের প্রতিটি গরু বিক্রি হয় এক লাখ থেকে তিন লাখ টাকায়। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটের ব্যবসয়ীরা এলে তারা ভালো দামে গরু বিক্রি করতে পারবেন।
এদিকে, দেশি গরুর দাম পড়ে যাওয়ায় বা দাম কম হওয়ায় বিদেশি গরুর চাহিদাও কমে গেছে। পাবনার বেড়ার সিঅ্যান্ডবি চতুর হাট ঘুরে দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ী ও খামারিরা হাজার হাজার গরু নিয়ে আসছেন।
হাটের মধ্যে জায়গা কম থাকায় বাঁধের এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পশুর হাট বসেছে। পাবনা-ঢাকা-বগুড়া মাহসড়কের কোলঘেঁষে বেড়া সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ডের পাশে ইছামতি নদী পাড়ে গড়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গরুর হাট।
সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো থাকায় গরু ব্যবসায়ীদের কাছে এই হাট গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি মঙ্গলবার হাটবার হলেও ঈদের আগে প্রতিদিনই হাট বসছে।
শুধু পাবনা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে ব্যাপারীরা আসেন গরু কিনতে। এমনকি ভারত থেকে কিনে এনে এখানে বিক্রি করতে আসছেন।
উল্লাপাড়ার এক গরু ব্যবসায়ী জানান, বেড়া সিঅ্যান্ডবি চতুর হাটে তার অস্ট্রেলিয়ান জাতের একটি গরুর দাম উঠেছে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা। কিন্তু গত বছর এ ধরনের গরুর দাম ছিল সোয়া দুই লাখ টাকা। লোকসান হবে জেনে তিনি গরু বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, হাটে গরুর এত আমদানি। তিল ধারণের ঠাঁই নেই। দেশি গরুর দাম উঠেছে ৬০ হাজার টাকা। গত বছর এ ধরনের গরুর দাম ছিল ৭০ হাজার টাকা। লোকসান হবে বলে তিনি গরু বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
একে জামান/এএম/এমএস