সেতুমন্ত্রীর বেঁধে দেয়া সময় পার হলেও কাটেনি সড়কের দুরবস্থা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সিরাজগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:৫২ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০১৭

সিরাজগঞ্জ জেলার সবকটি মহাসড়কের খানাখন্দ মেরামতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর বেঁধে দেয়া ১০ দিনের সময় অতিবাহিত হলেও উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের প্রায় সবকটি মহাসড়কই খানাখন্দই রয়ে গেছে।

এই আঞ্চলিক সড়কের বেহাল অবস্থা। সেগুলো মেরামতে জেলার হাটিকুমরুল-ঢাকা, হাটিকুমরুল-বনপাড়া ও বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কে ইট দিয়ে ‘হেরিংবোন থেরাপি’ চালু রেখেছে সওজ।

বৃষ্টির কারণে কোনো চেষ্টাই সফল হচ্ছে না। ফলে কোরবানির ঈদে ভোগান্তি নিয়ে বাড়ি ফিরছে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।

বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, জেলার হাটিকুমরুল মোড়, উল্লাপাড়া, চান্দাইকোনা-ঘুড়কা ও হাটিকুমরুল-বনপাড়া সড়কের মহিষলুটি-খালকুলা মহাসড়কের বিটুমিন ও পাথরের মিশ্রণ প্রবল বৃষ্টিতে উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। হাটিকুমরুল মোড়ে কয়েক মাস আগে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার করার এক সপ্তাহ পর নতুন করে খানাখন্দ দেখা দেয়।

sirajpur

এসব মহাসড়ক দিয়ে ঢাকা, উত্তরবঙ্গ, রাজশাহী ও খুলনার দিকে প্রতিদিন প্রায় ১৫-১৬ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের ছুটিতে সড়ক-মহাসড়কে আরও গাড়ির চাপ বাড়ে। জেলার বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সড়কেরও একই অবস্থা বিরাজমান।

এছাড়া সয়দাবাদ-বেলকুচি-এনায়েতপুর সড়কের উপরিভাগের পাথর ও বিটুমিনের মিশ্রণ উঠে গিয়ে শতাধিক ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একই অবস্থা শিয়ালকোল-নলকা, তাড়াশ-রানীরহাট-বারুহাস, তাড়াশ-নিমগাছী-ভুইয়াগাঁতী, উল্লাপাড়া-লাহিড়ী মোহনপুরসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়কের।

তার ওপর গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে অবস্থা আরও বেহাল হয়ে পড়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলার মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে একদিকে যেমন ২-৩ ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে অন্যদিকে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে।

sirajpur

গত ৯ আগস্ট সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সিরাজগঞ্জে মহাসড়ক পরিদর্শনে আসেন। সে সময় তিনি হাটিকুমরুল মোড়ের খানাখন্দ দেখে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাৎক্ষণিক সিরাজগঞ্জের সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা মোস্তফাকে প্রত্যাহার ও রাজশাহীর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পাবনা অঞ্চলের অতিরিক্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে শোকজ করেন।

জেলার সবকটি মহাসড়কের খানাখন্দ মেরামতে সর্বোচ্চ ১০ দিনের সময় বেঁধে দেন সেতুমন্ত্রী। সেই সময়সীমা গত ১৯ আগস্ট শেষ হয়েছে। কিন্তু, মহাসড়কগুলোর বেহাল অবস্থা দূর হয়নি। বৃষ্টির কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন খানাখন্দ বাড়ছে। সেই সঙ্গে কাটেনি সড়কের আগের দুরাবস্থাও।

হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর কাদের জিলানী জানান, সিরাজগঞ্জ জেলার তিনটি মহাসড়কের অবস্থা এমনিতেই ভালো না। তার ওপর বৃষ্টির কারণে আরও বেহাল হয়েছে। ঈদের আগে এসব মহাসড়কে যাত্রী দুর্ভোগ বাড়ছে।

সিরাজগঞ্জ সওজ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলার সবকটি মহাসড়কের খানাখন্দ মেরামতে সেতুমন্ত্রী গত ৯ আগস্ট সরেজমিনে এসে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেই ডেডলাইন মানা সম্ভব হয়নি। ৩-৪ দিন ভালোভাবে বিটুমিনের কাজ করতে হবে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে সেটা এখন সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, হাটিকুমরুল মোড় থেকে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের চান্দাইকোনার দিকে ১৭ কি.মি. অংশের খানাখন্দে ইট দিয়ে ‘হেরিংবোন’ করা হলেও বৃষ্টিতে আশেপাশে ফের নতুন নতুন গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেসব অংশেই মেরামত চলছে। জেলার সবকটি মহাড়কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সড়কেও অসংখ্য খানাখন্দ রয়েছে। সেসবও মেরামত করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ (সওজ) অতিরিক্ত দয়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার জানান, ঈদ সামনে রেখে আমরা দ্রুতগতিতে সংস্কার কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু আবহাওয়ার প্রতিকূলতা কাজের গতি কমিয়ে দেয়। যদি আবহাওয়া ঠিক থাকে তাহলে কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।

সওজ রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু রওশন বলেন, সিরাজগঞ্জের ন্যাশনাল হাইওয়ে (এন-৫) বা মহাসড়কের খানাখন্দর মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৬ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। সেসব অর্থ যথাযথ খরচ না করে লোপাট করা হয়েছে- এমন অভিযোগে সেতুমন্ত্রী গত ৯ আগস্ট নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রত্যাহার করেন।

এমনকি আমাদেরকেও শোকজ করেন। বর্তমানে সিরাজগঞ্জের মহাসড়ক জরুরিভাবে খানাখন্দ মেরামত করা হচ্ছে। যেহেতু সেতুমন্ত্রী নিজেই দেখে গেছেন। তাই এসব মেরামত ও সংস্কারের জন্য জন্য বিশেষ বরাদ্দও দেয়া হবে। আমি ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তদারকি করছি। মাঝে মধ্যেই বৃষ্টির কারণে মেরামত কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এএম/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।