রাজবাড়ীতে বানভাসিদের নিরানন্দ ঈদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ০৩:৩২ এএম, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদুল আজহা, ঘরে ঘরে ঈদের আনন্দ। কিন্তু রাজবাড়ীর বন্যা কবলিত প্রায় দেড় লাখ মানুষের মাঝে ধর্মীয় এ উৎসবের আনন্দ নেই। সন্তানদের জন্য নতুন জামা-কাপড় কেনা তো দূরের কথা ঈদে সেমাই-চিনি কেনাই যেন দায় হয়ে পড়েছে বন্যা কবলিতদের।

সম্প্রতি অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট বন্যায় রাজবাড়ীর প্রায় দেড় লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। বন্যার কারণে তাদের বসতবাড়ি, ফসলিজমিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। জেলা প্রশাসন উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে একাধিক বার চাল ও নগদ অর্থ দিয়েছেন। তাছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংগঠন তাদের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

RAJBARI

এদিকে নদীর পানি কমায় বসতবাড়ির পানি নামলেও এখনো বসবাস উপযোগী হয়নি। দীর্ঘ দিন পানি থাকায় বানভাসিদের ছিল না কোনো কর্ম । অনেক পরিবার দুই বেলা ভালো করে খেতেও পাচ্ছেন না। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ওই সব পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই। জেলা সদরের বরাট এবং গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ও দেবগ্রাম ইউনিয়নে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, বন্যার পানি কমে গেলেও কমেনি তাদের দুর্ভোগ। পরিবারের সদস্যদের দিতে পারেননি ঈদের নতুন জামা-কাপড়। ঈদ আনন্দ নেই তাদের মাঝে, অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন তারা। দীর্ঘ দিন বাড়িতে পানি থাকায় সব জায়গায় কাদা-ময়লা জমে স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। উপায় না পেয়ে বাড়িতে উঠেছেন।

RAJBARI

ছোট ভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমজাদ হোসেন জানান, নদী ভাঙা, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন তার ইউনিয়নের অন্তরমোড়ে রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছে। শুধু এখানকার নয় পার্শ্ববর্তী বরাট ইউনিয়নের বাসিন্দারাও এখানে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খুব কষ্টের মধ্যে দিন পার করছে। দীর্ঘ দিন বন্যার পানি থাকার কারণে কর্মহীন হয়ে তারা অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই তাদের মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই।

তিনি আরও জানান, বন্যা কবলিতদের মাঝে এখন পর্যন্ত দুই-তিন বার ত্রাণ ও টাকা দেয়া হয়েছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। আগামীতে ত্রাণ আসলে ওইসব ক্ষতিগ্রস্তরা পাবে। তিনি বানভাসিদের পাশে আছেন এবং থাকবেন।

রুবেলুর রহমান/আরএআর/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।