পারমাণবিক প্রকল্পের বর্জ্য ফেরত নেয়ার চুক্তিতে এলাকাবাসীর স্বস্তি
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বর্জ্য ফেরত নিয়ে যাওয়ার চুক্তি হওয়ায় প্রকল্পের আশেপাশের এলাকার লোকজন স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। রাশিয়া যে আমাদের অত্যন্ত মিত্র শক্তি তা আরেকবার প্রমাণ হলো বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন পাকশী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা হবিবুল ইসলাম হব্বুল।
রাশিয়া রূপপুর পারমাণবিকের বর্জ্য ফেরত নিয়ে যাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, বর্জ্য এখানে থাকলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতো বলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ভীতি কাজ করছিল। এতে গাছপালা ও মানুষের ক্ষতি এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী এক ধরনের অস্বস্তিতে ছিল। এখন সেসব শঙ্কা কেটে যাওয়ায় আমরা হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের বর্জ্য নিয়ে যে শঙ্কা ছিল তা এখন কেটে যাওয়ায় রূপপুরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানালেন পাকশী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তফা ইমরুল কায়েস। গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি বর্জ্য রাশিয়ায় ফেরত নিয়ে যাওয়া সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের খবর প্রকাশের পর রূপপুর ও পাকশী এলাকার মানুষের মাঝে উত্ফুল্লতা দেখা গেছে। বিভিন্ন পত্রিকায় বর্জ্য নিয়ে লেখালেখির কারণে এই এলাকার মানুষ চরম ভীত-সন্তস্ত্র অবস্থায় দিনযাপন করছিল। সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করে এই চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়ায় তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের খবর প্রচারিত হওয়ার পর এলাকায় নারী-পুরুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি-বর্জ্য রাশিয়ায় ফেরত নিয়ে যাওয়া হবে। বুধবার রাশিয়ায় এ সংক্রান্ত একটি সহযোগিতা চুক্তি রাশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, এর আগে গত ১৫ মার্চ ঢাকায় স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েল সংক্রান্ত একটি চুক্তি অনুস্বাক্ষরিত হয় এবং ৫ জুন মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে তা অনুমোদিত হয়।
উল্লেখ্য, ১,২০০ ও ১,২০০ মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ ঈশ্বরদীর রূপপুরে চলমান রয়েছে।
আলাউদ্দিন আহমেদ/আরএআর/এমএস