‘রূপবান’ শিমে ভরে গেছে মাঠ
‘রূপবান’ জাতের শিম এখন ঈশ্বরদীর মুলাডুলি অঞ্চলে বেশ জনপ্রিয়। অনেকের খেতেই এখন এই শিমের আবাদ দেখা যাচ্ছে। ভালো ফলন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হওয়ায় কৃষকরা এই শিম আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের পতিরাজপুর গ্রামের আলহাজ আব্দুল মজিদ শেখের ছেলে আলহাজ মো. আব্দুল হাকিম শেখের খেতে ‘রূপবান’ শিমের ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাঠ। দেশের অন্যতম প্রধান শিম উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত ঈশ্বরদীতে শিমের আগাম জাত ‘রূপবান’ শিম চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন শিমচাষি আব্দুল হাকিম। তিনি তার ৫ বিঘা শিমখেত থেকে ইতিমধ্যে দুই লাখ টাকার শিম বিক্রি করেছেন।
হাকিম বলেন, ৩৫শ টাকা মণ দরে তার আগাম লাগানো ৫ বিঘা জমি থেকে প্রায় ২ লাখ টাকার ‘রূপবান’ শিম ইতিমধ্যে বাজারে বিক্রি করেছেন। খরচের তুলনায় দাম একটু বেশি পাওয়ায় অনেক কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। তাই কৃষকরা এখন ‘রূপবান’ শিমের মরা ফুল বাছাই ও ফুল রক্ষার কাজে মহাব্যস্ত। খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে শিমের খেতে ফুল ও ফলের পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অতি বৃষ্টির কারণে অনেক কচি শিম গাছ থেকে ঝড়ে পড়েছে। তা না হলে আরও বেশি শিমখেত থেকে উত্তোলন করে বিক্রি করা যেত।
তিনি আরও বলেন, চাকরি নামের সোনার হরিণের পেছনে না ছুটে কৃষি খামার করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রওশন জামাল জানান, গত বছর শিম মৌসুমে ঈশ্বরদীতে এক হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছিল। কৃষকরা এখন আগাম জাতের ‘রূপবান’ শিম চাষে ব্যস্ত রয়েছে। তাছাড়া বাজারেও শিম উঠতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগ কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করছে বলেও তিনি জানান।
আলাউদ্দিন আহমেদ/আরএআর/আরআইপি