বড়ইতলার বর্বরতা আজও তাড়া করে তাদের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৭:২৭ এএম, ১৩ অক্টোবর ২০১৭

মহান মুত্তিযুদ্ধে লাখো প্রাণ বিসর্জন আর দুঃসহ যন্ত্রণা সয়ে লাল-সবুজের পতাকা ছিনিয়ে এনেছে বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরও যেনো বুকের দগদগে ক্ষত শুকায়নি কিশোরগঞ্জের বড়ইতলা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. হাফিজ উদ্দিনের। প্রিয় স্বাধীনতার জন্য পরিবারের ৫ জনকে হারাতে হয়েছে তাকে।

দামপাড়া গ্রামের প্রবীন শিক্ষক মো. আব্দুল আজিজ নিজের চোখে দেখেছেন সেদিনের বর্বরতা। নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যার পর অনেকের মরদেহ দাফন পর্যন্ত করতে দেয়া হয়নি। নদীতে ভাসিয়ে দিতে হয়েছে। চিকনীরচর গ্রামের মোন্তাজ উদ্দিন ও মোমরেজ মিয়া এখনও শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন বেয়নেটের যন্ত্রণা। কিশোরগঞ্জের কয়েকটি এলাকার শত শত মানুষকে আজও তাড়া করে বড়ইতলা গণহত্যার বর্বরতা।

আজ ১৩ অক্টোবর কিশোরগঞ্জের বড়ইতলা গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে কিশোরগঞ্জের বড়ইতলা নামক স্থানে ৩৬৫ জনকে হত্যা করে পাকিস্তানি মিলিশিয়া ও তাদের দোসর, রাজাকার-আলবদর বাহিনী।

সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান অনেকে। অনেকে বয়ে বেড়াচ্ছেন সেদিনের নৃশংস নির্যাতনের চিহ্ন। স্বাধীনতার এতদিন পরও নিহতদের স্বজনরা পায়নি শহীদের মর্যাদা। স্মৃতিসৌধে এখনও তৈরি করা হয়নি নিহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা।

১৯৭১ সালের ১৩ অক্টোবর সকালে ট্রেনে করে একদল মিলিশিয়া এসে নামে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়নের বড়ইতলা এলাকায়। তারা আশপাশের এলাকায় লুটপাট আর অগ্নিসংযোগ করতে থাকে। একসময় চার শতাধিক গ্রামবাসীকে ধরে আনা হয় বড়ইতলায়। রেললাইনের পাশে দাঁড় করিয়ে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয় কর্শাকড়িয়াইল, দামপাড়া, চিকনিরচরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের ৩৬৫ জনকে।

স্বাধীনতার পর বড়ইতলার নাম রাখা হয় শহীদ নগর। নির্মাণ করা হয় একটি স্মৃতিসৌধ। কিন্তু এখনও ইতিহাসের ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্থানীয় রাজাকারদের বিচার হয়নি। মেলেনি শহীদের স্বীকৃতিও। জাতীয় দিনগুলোতে স্মৃতিসৌধের ইট ভিজে যায় স্বজন হারাদের চোখের জলে।

ইতিহাসের বর্বরচিত এ গণহত্যায় জড়িতদের বিচার আর শহীদ পরিবারের স্বীকৃতির দাবি এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করার কথা ভাবছে বলে জানান জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মো. আসাদ উল্লাহ।

তিনি জানান, তারা চেষ্টা করছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাউকে দিয়ে মামলা করানোর। কেউ এগিয়ে না এলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদই মামলা করবে।

বড়ইতলা গণহত্যায় নিহত পরিবারগুলোর অনেকের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৬ বছরেও জোটেনি শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি। তবে এ ঘটনায় জড়িত রাজাকার- আলবদরদের বিচার দেখে যেতে চান শহীদের স্বজনেরা।

নূর মোহাম্মদ/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।