ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান


প্রকাশিত: ০৬:৪১ এএম, ২৩ জুন ২০১৫

তিন বছর আগে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভবনটির ২য় তলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপরও ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এতে হাজারো শিক্ষার্থীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিদ্যালয় থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি অবগত করে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০৩১ জন। বিদ্যালয় ভবনের ২য় তলার ছাদ ও বিমের বেশির ভাগ আস্তর ধসে পড়েছে। এ কারণে লোহার রড বেরিয়ে গেছে। কিছু কিছু ঝুলেও আছে। অনেকগুলো বিম ফেটে গেছে। এজন্য সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। দ্বিতীয় তলার পাঁচটি কক্ষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়। ওই ভবনের নিচ তলায় রয়েছে অফিস কক্ষ, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের কক্ষসহ ৭টি কক্ষ।

ছাত্রী রেহানা আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, আতঙ্ক নিয়ে প্রতিদিন আমাদেরকে বিদ্যালয়ে আসতে হয়। ক্লাস চলাকালে কিছুক্ষণ পরপর ছাত্রীরা ছাদের দিকে তাকান। ২ বছর আগে সিমেন্টের আস্তর ধসে পড়ে কয়েকজন ছাত্রী আহত হয়েছে।

ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান জাগো নিউজকে বলেন, ৩ বছর আগে বিদ্যালয়ের ২য় তলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকির মধ্যেই পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

কয়েকজন শিক্ষক জানান, অতি বৃষ্টিতে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়ে। বিদ্যালয়ের ভেতরের ছাদের বিম, দেয়াল ও টয়লটের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ধসে পড়ছে পলেস্তারা। এছাড়া দরজা-জানালা ও লোহার গ্রিলগুলোর অধিকাংশই মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর কাদের জাগো নিউজকে বলেন, বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সবাই আতঙ্কে আছেন।

রায়পুর উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেন ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনের তালিকায় এ বিদ্যালয়ের নামটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে নতুন ভবন করা হবে।

কাজল কায়েস/এমজেড/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।