গ্রাহকদের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা ম্যানেজার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৭

সুড়ঙ্গ খুঁড়ে ব্যাংকের ভল্ট থেকে ১৬ কোটি টাকা লুটের কয়েক বছর যেতে না যেতেই এবার কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখার ম্যানেজারের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি করে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসএমই লোনের অসংখ্য গ্রাহকের টাকা হিসাব থেকে তুলে নিয়েছেন ওই শাখার ম্যানেজার সাইফুদ্দিন সবুজ। বিষয়টি প্রকাশ হওয়ায় পালিয়ে গেছেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করছে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি অডিট টিম।

২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি সুড়ঙ্গ খুঁড়ে কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ভল্ট থেকে ১৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা লুট হয়। এ ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার তিন বছর পর এবার ওই ব্যাংকে ঘটল আরেক আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা।

শহরের মোল্লাপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আখতার হোসেনের নামে সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয় থেকে ১০ লাখ টাকার এসএমই লোন মঞ্জুর হয়। লোন হওয়ার আগে ব্যাংকের ম্যানেজার সাইফুদ্দিন সবুজ ওই ব্যবসায়ীকে জানান, লোন পেতে হলে ব্যাংক হিসাবে লেনদেন দেখাতে হবে। এ জন্য আখতার হোসেনের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা তিনটি চেকের পাতা রাখেন। পরে আখতার হোসেন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার হিসাব থেকে ১০ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়েছে।

এভাবে অসংখ্য এসএমই গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করে জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন ব্যাংকের ম্যানেজার। লোন ছাড়াও ব্যাংকের জমার রশিদ দিয়েও টাকা জমা না করে আত্মসাৎ করা হয় অনেকের টাকা।

এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অডিট টিম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রাথমিকভাবে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।

কিন্তু আদেশ মতো ময়মনসিংহ জিএম অফিসে যোগদান না করে পালিয়ে যান তিনি। এদিকে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য এসএমই গ্রাহক ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেয়ার বিষয়টি জানতে পারেন।

ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্তমান ম্যানেজার মাহবুবুল ইসলাম খান জানান, প্রতিদিন নতুন নতুন গ্রাহকরা তার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি অডিট টিম তদন্ত করছে। অডিট এবং তদন্তের পর জানা যাবে গ্রাহকদের কত টাকা খোয়া গেছে। এ পর্যন্ত ৮ জন গ্রাহকের প্রায় ৬০ লাখ টাকা তুলে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় সোনালী ব্যাংক কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) নূর মোহাম্মদ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন।

তিনি জানান, মামলায় প্রাথমিকভাবে দুটি ঘটনায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে আরও অভিযোগ পাওয়া গেলে তা একই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে ব্যাংকের প্রধান কার্যারয়ের নির্দেশে অচিরেই একটি তদন্ত টিম গঠন করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খোন্দকার শওকত জাহান জানান, মামলাটি এফআইআর করে তদন্তের জন্য দুর্নীতিদমন কমিশন (দুদক) ময়মনসিংহ অঞ্চলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সোনালী ব্যাংকের গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেয়া টাকার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ইসমাইল হকের নেতৃত্বে এ ঘটনা তদন্ত করছে তিন সদস্যের একটি অডিট টিম।

নূর মোহাম্মদ/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।