বেতনের বদলে চিনি!
আশ্চর্য হলেও সত্যি পাবনা সুগার মিলে টাকার অভাবে বেতন বাবদ চিনি দেয়া হচ্ছে। এপ্রিল মাস থেকে মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। তিন মাসের বেতন বাবদ বকেয়া পড়েছে প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অন্যদিকে মিলের গুদামে পড়ে আছে ১০ হাজার মে.টন চিনি যার মূল্য ৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
জানতে চাইলে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বেতন বকেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, যে সব শ্রমিক-কর্মচারী চিনি নিতে চাচ্ছেন শুধু তাদেরকেই টাকার বদলে বেতন বাবদ চিনি দেয়া হচ্ছে।
এদিকে অর্থের প্রয়োজনে চিনি নিয়ে মিলগেটেই দালালদের কাছে বিক্রি করতে যেয়ে বস্তা প্রতি দেড় থেকে দুইশ’ টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে চাকুরি নির্ভর অনেকে দারুণ হতাশার মধ্যে দিনযাপন করছেন।
জানা গেছে, এই মিলে বর্তমানে ১০ হাজার মে.টন চিনি অবিক্রিত অবস্থায় পড়ে আছে। মিলগেটে খোলা চিনি প্রতি কেজি ৩৭ টাকা ও প্যাকেট চিনি ৪২ টাকা দরে বিক্রির জন্য নির্ধারিত রয়েছে। কিন্তু চিনি বিক্রি হচ্ছে না। বাজারে আমদানিকৃত চিনি দেশি চিনির চেয়ে সাদা হওয়ায় মিষ্টি ব্যবসায়ীরা আমদানি করা চিনি ক্রয় করে থাকে। দেশি চিনি গুণে ও মানে উন্নত হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র রং একটু লালটে হওয়ায় তা আশানুরূপভাবে বিক্রি হচ্ছে না।
এদিকে, মিলের শ্রমিকরা চিনি নিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে সময়মত বেতন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আলাউদ্দিন আহমেদ/এসএস/আরআই