আ.লীগ নেত্রী খুন : জড়িতদের গ্রেফতারে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক স্বপ্না আক্তার (৪০) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল।

বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের বড় বাঙ্গরা ঈদগাহ্ মাঠে স্বপ্না আক্তারের মরদেহের জানাজায় অংশ নেন সাংসদ বাদল। এ সময় তিনি হত্যকাণ্ডের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের প্রতি নির্দেশনা দেন। পরে স্বপ্নার মরদেহ জিনোদনপুর ইউনিয়নের চারপাগা গ্রামের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে স্বপ্না আক্তারের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। তার বাম চোখের ওপর থেকে একটি গুলি বের করা হয়েছে। যদিও স্বপ্নাকে দুর্বৃত্তরা গুলি করেছিল কিনা সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, দুর্বৃত্তরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করে স্বপ্নাকে হত্যা করে। তবে গুলির নমুনার বিষয়ে ফরেনসিক প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে স্বপ্নার ভাই আমির হোসেন বাদী হয়ে সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্তদের সঙ্গে স্বপ্নার বিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও কিছু বিষয় নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

আমির হোসেনের দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, স্বপ্না আক্তার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে দলীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে উল্লেখিতদের সঙ্গে মতবিরোধ চলছে।

ওই মতবিরোধের কারণেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। উপজেলার বাঙ্গরা উত্তরপাড়ার নাছির মিয়ার ছেলে আপন, ইসলাম মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেন, আবুল কাসেমের ছেলে নাহিদ, মেরকুটা গ্রামের যুবলীগ নেতা আলমগীর, চারপাড়ার ধন মিয়ার ছেলে সাঈদ, সিরাজ আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিন ও হারুয়ার জাহাঙ্গীর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, সকালে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) চিত্ত রঞ্জন পাল, নবীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম সিকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।

গতকাল বুধবার রাতে স্বপ্না আক্তারকে খুন করে তার রক্তাক্ত মরদেহ নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ফেলে রাখে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জাহাঙ্গীর নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গীরের সিএনজি অটোরিকশা দিয়ে স্বপ্না নিয়মিত চলাচল করতেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।

আজিজুল সঞ্চয়/এএম/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।