‘চাওয়া-পাওয়া’ নিয়ে ইউএনও ও ওসির বক্তব্যে গরমিল

উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০১:২২ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০২:০৭ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭
‘চাওয়া-পাওয়া’ নিয়ে ইউএনও ও ওসির বক্তব্যে গরমিল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের নজরে আসার পরও দু’দিনে দুই স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ সম্পন্ন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এ বাল্যবিয়ে দুটি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন বলেন, থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ চেয়ে না পাওয়ায় বিয়ে বাড়িতে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

বাল্য বিবাহের শিকার ওই দুই শিক্ষার্থী হলো উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের মামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থী রুমা আক্তার ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মোছা. শিমলা আক্তার।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা সদরের বাইমহাটী গ্রামের আব্দুল বাছেদের ছেলে মো. বাতেন মিয়ার সঙ্গে রুমার বিয়ে হয়। গত শুক্রবার রুমা স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি যায়।

শনিবার দুপুরে (ফিরানী) পুনরায় তাকে স্বামীর বাড়ি নিতে মেহমানেরা তাদের বাড়ি যান। এছাড়া গত শুক্রবার শিমলার উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ঘুগী গ্রামের আজগর আলী শিকদারের ছেলে সেলিম আল মামুনের সঙ্গে বিয়ে হয়। শনিবার দুপুরে ঘুগী গ্রামে স্বামীর বাড়ি থেকে তাকে আনার জন্য পরিবারের সদস্যরা গেছেন।

আটিয়া মামুদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, ভর্তি রেজিস্ট্রার অনুযায়ী রুমার জন্ম তারিখ ২০০২ সালের ২৫ জুলাই। তবে আনাইতারা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেয়া ছাত্রীটির জন্ম নিবন্ধনের সনদে (নম্বর ১৯৯৯৯৩১৬৬১৫০১৪০৫৯) রয়েছে ৩ জুলাই ১৯৯৯।

রুমার মা রিনা বেগম সাংবাদিকদের বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম সনদ নিয়ে টাঙ্গাইলে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন।

বিদ্যালয়ে ভর্তি নিবন্ধন খাতায় শিমলার জন্ম তারিখ ৭ আগস্ট ২০০৪ থাকলেও বিয়ের কারণে জন্ম নিবন্ধন সনদে ১১ মার্চ ১৯৯৯ উল্লেখ করা হয়েছে। শিমলার মা সেলিনা বেগম বলেন, মেয়ে বড় হয়েছে। সেজন্য মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, রুমাকে বিবাহ না দিতে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে তার অভিভাবকদের অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা কথা দিয়ে কথা রাখেননি। এছাড়া শিমলার কীভাবে বিয়ে হয়েছে তা তিনি জানেন না বলে জানান।

মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মিজানুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা তার কাছে পুলিশ চাননি। আমি অন্য মাধ্যমে বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে একজন অফিসারসহ পুলিশ দিয়েছিলাম।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত সাদমীন জানান, থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ চেয়ে না পাওয়ায় বিয়ে বাড়িতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জাহাঙ্গীর আলমকে জানিয়েছিলাম।

এমএএস/জেআইএম