শকুন হত্যায় মামলার নির্দেশ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ০৩:১০ এএম, ২২ ডিসেম্বর ২০১৭
শকুন হত্যায় মামলার নির্দেশ

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিরল প্রজাতির দুটি শকুনকে উদ্ধারের পর একটি শকুনকে জবাই করে হত্যা করেছে স্থানীয় আদিবাসীরা। এ ঘটনায় শকুন হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে হিমালয়ের দিক থেকে উড়ে আসা ২টি বিরল প্রজাতির শকুন অসুস্থতার কারণে বীরগঞ্জের ঝাড়বাড়ী কলেজ মোড়ে একটি বাগানে এসে পড়ে। এসময় শকুন দুইটিকে দেখতে পেয়ে তীর ধনুক ছুড়ে একটিকে আটক করে আদিবাসীরা। পরে আহত শকুনটিকে জবাই করে তারা।

অপর শকুনটিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের ঝাড়বাড়ী কলেজ মোড় এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ মো. জাকির হোসেন জানান, জীবিত পাখিটিকে শহিদুল ইসলামের বাসায় রাখা হয়েছে। তারা শকুনটিকে ছেড়ে দিলেও দুর্বলতার কারণে উড়ে যেতে পারেনি। পরে শতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম্য পুলিশ এসে পাখিটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

dinajpur

এ ব্যাপারের শতগ্রাম ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের দফাদার মো. বাবুল হোসেন জানান, একটি জীবিত ও একটি জবাই করা শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত শকুনটিকে চিকিৎসা দিতে বীরগঞ্জ উপজেলা পশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বীরগঞ্জ উপজেলা প্রানীসম্পদ বিভাগের ডা. মো. ইউনুস আলী জানান, শকুনটি কোনো কারণে আঘাত পেয়ে অসুস্থ হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। শকুনটিকে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

দিনাজপুর বিভাগীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম তুহিন জানান, শকুনটি দেখে প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছে এটি হিমালয়ান গ্রিফেন ভালচার প্রজাতির শকুন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দিনাজপুরের বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুল আউয়াল সরকার জানান, জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া শকুনটির চিকিৎসা চলছে। শকুনটিকে উদ্ধারের জন্য ঠাকুরগাও রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা হরিপদ রায়কে দায়ীত্ব দেয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে যারা অপর শকুনটিকে হত্যা করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রাণী সম্পদ সংরক্ষণ আইনে মামলা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অসুস্থ শকুনটি সুস্থ হলে বীরগঞ্জ সিংড়া ফরেস্টে ভালচার রেসকিউ সেন্টারে রাখা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১০ নভেম্বর শুক্রবার দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা থেকে অসুস্থ অবস্থায় একটি শকুন উদ্ধার করা হয়। শকুনটি রামসাগর জাতীয় উদ্যানের চিড়িয়া খানায় রাখা হয়েছে।

এমদাদুল হক মিলন/এফএ/আইআই