বগুড়ায় হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৮

বগুড়ায় গত কয়েকদিনের হাড় কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। গত ৩-৪ দিন সূর্যের দেখা মিলছে অল্প সময়ের জন্য। নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষরা খুবই কষ্টে দিন পার করছেন। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শীতবস্ত্র বিক্রি বেড়েছে। শীতার্তরা ফুটপাতের পুরাতন শীতবস্ত্র কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।

বগুড়া আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় হালকা শৈত্যপ্রবাহ চলছে। সোমবার সকাল ৬টায় বগুড়ায় সর্বনিম্ন ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ ২২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

এদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে স্টেশন, ফুটপাত, সড়ক দ্বীপসহ বিভিন্ন খোলা স্থানে আশ্রয় নেয়া ছিন্নমূল মানুষের দূর্ভোগ বেড়েছে। সরকারি বা বেসরকারিভাবে এখনও তেমনভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিউমার্কেট থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে শীতবস্ত্র বিক্রি বেড়েছে।

বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, হালকা এ শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন থাকতে পারে।

প্রচণ্ড শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে চাষিরা তাদের হাজার হাজার হেক্টর জমিতে দেরিতে লাগানো আলুগাছ ও সবজিখেত নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কৃষি বিভাগ ইতোমধ্যেই শীত ও কুয়াশাজনিত রোগ বালাই থেকে আলু ও সবজি গাছ রক্ষার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে মাইকিংসহ নানা রকম প্রচারণা শুরু করেছে। যদিও ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে আলুখেত পাতা কুঁচকানো ভাইরাস রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

bogra1

প্রচণ্ড শীত এবং ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে উত্তরাঞ্চলের মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দূর পাল্লার যানবাহনের পূর্বনির্ধারিত গন্তব্য সিডিউল পরিবর্তন করা হচ্ছে। কুয়াশার কারণে যে সব যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলছে সেগুলোও পড়ছে দুর্ঘটনার কবলে। গত ১৫ দিনে এই অঞ্চলে ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে ১৫টি। এর মধ্যে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনাতেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে শীতের কারনে বগুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় শিশুরা ডাইরিয়া, আমাশয়, সর্দি কাশি পেটের পীড়াসহ ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শিশুদের পাশাপাশি বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছে।

ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শীতজনিত রোগ। ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত বিভিন্ন রোগে গত এক সপ্তাহে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে পাঁচ শতাধিক শিশুকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের হাত থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতে সতর্ক থাকতে হবে অভিভাবকদের।

অসুস্থ এক শিশুর অভিভাবক বলেন, বমির সঙ্গে রক্ত আসছিল বাচ্চার। তখন আমরা শিশু বিশেষজ্ঞকে দেখিয়েছি।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শফিকুল আলম বলেন, বাচ্চার যখনই ডায়রিয়া শুরু হবে তখনই যেন খাবার স্যালাইন খাওয়ানো হয়। কোনো সমস্যা হলে তাদের নিকটস্থ স্বাস্থ্য পরিচর্যা কেন্দ্র বা চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।