উদ্বোধনের আগেই সেতুতে ধস

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৮:২৪ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৮
উদ্বোধনের আগেই সেতুতে ধস

টাঙ্গাইলের বাসাইলে উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ ফুট দীর্ঘ একটি সেতু। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে সেতুটি উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে। এ কারণে বাসাইল প্রকল্প কর্মকর্তাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে গত ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে টাঙ্গাইল জেলার ১২টি উপজেলায় মোট ১২৮টি সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়।

এ কার্যাদেশে বাসাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাতটি সেতু রয়েছে। সাতটি সেতুর মধ্যে ইতোমধ্যেই চারটি সেতুর নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়েছে। বাকি তিনটি সেতুর নির্মাণকাজ চলছে।

বাসাইলের ফুলকি ইউনিয়নের ফুলকি-ফুলবাড়িয়া রাস্তার নিকরাইল টেংরাখালী সেতুর কাজ পায় মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টার প্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তিন মাস আগে সমাপ্ত হয় প্রায় ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি।

সেতুটি নির্মাণের সময় রড, সিমেন্ট ও বালুসহ খুবই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয়রা মৌখিকভাবে বেশ কয়েকবার অভিযোগ জানায় বাসাইল উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেনের কাছেও। এরপরও ওই কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

স্থানীয় বাবুল মিয়ার অভিযোগ সেতুটি নির্মাণের সময় ঠিকাদারকে দেখা যায়নি। সে সময় ধান কাটা শ্রমিকদের দিয়ে সেতুর কাজ করতে দেখা যায়। এসব অনিয়মেও প্রকল্প কর্মকর্তাকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

একই অভিযোগ স্থানীয় অনেকের। তাদের অভিযোগ প্রকল্প কর্মকর্তার উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণে সেতুর এ অবস্থা। স্থানীয় ১০/১৫ গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ চলে আসছে। সেতুটি ধসে যাওয়ায় ওই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা।

এ নিয়ে মেসার্স আব্দুল্লাহ এন্টার প্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার জাহিদের ব্যক্তিগত মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, বাসাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন নিম্নমানের কাজ হওয়ায় সেতুটি ধসে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, গত ১২ জুন সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতের কারণে ব্রিজটি ধসে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উদ্বোধনের আগেই প্রায় ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি ধসে পড়ার বিষয়ে বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সেতুটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্প অফিসের প্রকৌশলীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পরিদর্শন করে গেছেন।

এ প্রসঙ্গে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন নাহার স্বপ্না বলেন, কেন আর কিভাবে সেতুটি ধসে পড়েছে তদন্তপূর্বক দেখা হচ্ছে। কাজের ত্রুটি থাকলে অবশ্যয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/আরআইপি