চেয়ারম্যান ও নারী সদস্যের আলোচিত ঘটনার মীমাংসা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০৬:৫৫ পিএম, ০৫ মার্চ ২০১৮

বগুড়ার শিবগঞ্জে ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের নারী ইউপি সদস্য শাহানা বেগমকে (৪০) রাম দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করার ঘটনা আওয়ামী লীগ নেতাদের চাপে আপোস-মীমাংসা করা হয়েছে। রোববার রাতে পৌরসভার হলরুমে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সমঝোতা করা হয়। বৈঠকে নারী ইউপি সদস্য শাহানা বেগমের হাত ধরে ক্ষমা নেন ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রুপম।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হকের উপস্থিততে এ সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা, পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক, ইউপি চেয়ারম্যান এবিএম শাজাহান চৌধুরী, ফিরোজ আহম্মেদ রিজু ও মহিদুল ইসলাম।

আপোস-মীমাংসা প্রসঙ্গে শাহানা বেগম সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে জানান, দলীয় নেতাদের চাপে আপোস-মীমাংসা করতে বাধ্য হয়েছি। শুধুমাত্র হাত ধরে ক্ষমা নিয়েই বিচার শালিস শেষ। মন থেকে বিচার না মানলেও দলের নেতাদের কারণে মেনে নিয়েছি। গরিবের জন্য কোনো আইন নেই।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আপোস-মীমাংসার সময় দলের নেতারা কেউ বললেন না যে, চেয়ারম্যানের হাতে অস্ত্র কেন? সে নিজে কীভাবে একজন নারী সদস্যকে আঘাত করেন।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা দলীয় চাপের কথা অস্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যান এবং নারী সদস্য দুজনই দলের লোক। এ কারণে দলের স্বার্থে তাদেরকে একসঙ্গে পরিষদের কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য সবাইকে নিয়ে সমঝোতা করা হয়েছে।

ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম রূপম এ প্রসঙ্গে বলেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে যেন এরকম ঘটনা না ঘটে, সেজন্য উভয়েই সর্তক থাকবো।

উল্লেখ, কর্মসৃজন প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের প্রতিবাদ করায় গত ১ মার্চ দুপুরে জনসম্মুখে নারী ইউপি সদস্য শাহানাজ বেগমকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন আওয়ামী লীগ দলীয় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম রুপম। ওই রাতেই এ ঘটনায় থানায় মামলা দেয়া হলেও পুলিশ চার দিনেও তা রের্কড করেনি। পরে পুলিশ মামলা না নেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে গত রোববার দুপুরে তিনি বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

লিমন বাসার/এমএএস/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।