হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই, আক্রান্ত অর্ধশতাধিক
ঝালকাঠিতে কুকুরের কামড়ের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে তবে সে অনুপাতে জেলা সদর হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাচ্ছে না তারা। গত তিনদিন থেকে হাসপাতালে ভ্যাকসিনের এ সংকট দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার নতুন গোরস্থান জামে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে মধ্য চাঁদকাঠিস্থ বাসায় ফিরছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য মো. ফারুক (৬৭)। এমন সময় পেছন থেকে একটি পাগলা কুকুর এসে তার বাম পায়ের গোড়ালিতে কামড় দেয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান ভ্যাকসিন নিতে। সেখানে ভ্যাকসিন না থাকায় বাহিরের ফার্মেসি থেকে ১ হাজার টাকা করে ৩টি ভ্যাকসিন কিনে।
শহরতলীর বাদলকাঠি এলাকার আব্দুল মান্নান তালুকদারের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৪০)। বাড়ির পাশের টিউবওয়েল থেকে বালতিতে করে পানি নিয়ে ঘরে ফিরছিলেন। এসময় একটি কুকুর এসে তার ডান পায়ের গোড়ালিতে কামড় দেয়। বালতি রেখে হাত দিয়ে কুকুরটিকে তাড়া দিলে ডান হাতের আঙ্গুলেও কামড় দেয়। তিনিও গিয়েছিলেন সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভ্যাকসিন নিতে। সেখানে ভ্যাকসিন না থাকায় ১ হাজার টাকা দিয়ে বাহিরের ফার্মেসি থেকে একটি কিনে আনেন।
বিকনা এলাকার দিনমজুর সেলিম মৃধার শিশু পুত্র রাকিব (৮) বাড়ি থেকে স্কুলে যাচ্ছিলো। পাশ থেকে একটি পাগলা কুকুর এসে বাম উড়ুতে কামড় দেয়। সেলিম মৃধা শিশু পুত্রকে নিয়ে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভ্যাকসিন দেয়াতে গেলে সেখানে ভ্যাকসিন না থাকায় হত দরিদ্র পরিবারটি ফার্মেসি থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে একটি ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত ব্রাদার মনিন্দ্রনাথ, রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
ব্রাদার মনিন্দ্রনাথ জানান, কুকুরে অথবা বিষাক্ত প্রাণিতে কামড় দিলে র্যাবিস ভ্যাকসিন (হিউম্যান) গ্রুপের ভ্যাকসিন পুষ করতে হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবারে হাসপাতালে এ ভ্যাকাসন শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে যারা ভ্যাকসিন নিতে আসে তাদেরকে বাইরে থেকে কিনে নিতে হচ্ছে। এর মধ্যে রোববার ও সোমবারে কুকুরে কামড়ানো অর্ধশতাধিক রোগী আসে। আর এই কারণে তাদেরকে ভ্যাকসিন বাহির থেকে কিনতে হয়েছে।
এ দিকে হঠাৎ করে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাহিরের ফার্মেসিগুলোতেও ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার জানান, ভ্যাকসিন প্রয়োজন জানিয়ে চাহিদাপত্র দিয়ে ঢাকায় লোক পাঠানো হয়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে আসলেই সমস্যার সমাধান হবে।
মো.আতিকুর রহমান/আরএ/পিআর