বাঁশের চাটাইয়ে জড়িয়ে মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৯:০৪ পিএম, ২০ মে ২০১৮

পাবনার বেড়া উপজেলায় প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকারের মরদেহে জাতীয় পতাকার বদলে বাঁশের চাটাইয়ে জড়িয়ে গার্ড অব অনার দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকার মৃত্যুবরণ করেন। তার বাড়ি বেড়া পৌরসভার সম্ভুনাথপুরে। শনিবার বেড়া পৌর এলাকার শহীদ আব্দুল খালেক স্টেডিয়ামে তাকে বাঁশের চাটাইয়ে জড়িয়ে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। এ সময় বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব হাসান, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারাসহ সকল পর্যায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে সংশ্লিষ্টদের এমন দায়িত্বহীনতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ভুল স্বীকার করেছে প্রশাসন। একে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বলে মেনে নিয়েছেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাসহ স্থানীয়রা একে শুধু অবহেলা বা গাফিলতি বলতে রাজি নন। তারা একে অন্যায় বলে মনে করছেন। দোষীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকারের গোসল করানোসহ যাবতীয় কাজকর্মের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের উপর দায়িত্ব দেয়া ছিল। তারা কফিনে জাতীয় পতাকা দিয়ে মোড়ানো ছাড়াই গার্ড অব অনার প্রদানের জন্য প্রস্তুত করেন। পরে প্রশাসনের লোকজন যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ইসহাক আলী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা তাহেজ উদ্দিন সরকারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। গার্ড অব অনার দেয়া হয়েছে। কিন্তু ভুলক্রমে জাতীয় পতাকা আনা হয়নি। একদম শেষ মুহূর্তে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। কিন্তু ততক্ষণে তীব্র রোদে লাশ প্রায় ফুলে উঠেছিল। তাই পতাকার জন্য অপেক্ষা না করে চাটাই দিয়েই গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব হাসান বলেন, আমি নিজেও বিষয়টি লক্ষ্য করিনি। পরে যখন লক্ষ্য করলাম স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ইসহাক আলীর কাছে কারণ জানতে চাইলে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আসলে ওই সময় কিছুই করার ছিল না।

আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।