নদের মধ্যে আড়াআড়ি বাঁধ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৪:১০ পিএম, ২১ মে ২০১৮

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটির ব্যবসার জন্য উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোট বহুরিয়া এলাকায় লৌহজং নদে আড়াআড়ি দুটি বাঁধ দিয়ে নদের গতিপথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে পানিপ্রবাহ ও নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মাছের অবাধ বিচরণ।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের কোট বহুরিয়া ও গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা এলাকায় ২১টি ইটভাটা রয়েছে। ওসব ভাটাসহ আশেপাশের ভাটায় মাটি নিতে কোট বহুরিয়া এলাকার ফজল ব্রিকসের পশ্চিম পাশে লৌহজং নদে স্থানীয় ভাটা ও মাটি ব্যবসায়ীরা বাঁধ দেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের কারণে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে পানি ঠিকমতো প্রবাহিত হতে পারছে না। একটি বাঁধের মাঝখানের কিছু অংশ কেটে দেয়া হয়েছে। অপর বাঁধের নিচে পাইপ বসানো হয়েছে। বাঁধের কারণে উত্তর পাশে কচুচিপানা জমে আছে। এছাড়া উত্তর পাশের চেয়ে দক্ষিণ পাশে পানির উচ্চতা প্রায় তিন ফুট কম।

ফজল ব্রিকসের মালিক ফজল মিয়ার ছেলে জব্বার হোসেন জানান, বাঁধ দিয়ে নদের পশ্চিম পাড় থেকে তাদের ভাটাসহ স্থানীয় ২১টি ইটভাটায় মাটি নেয়া হয়। মাটি আনার সঙ্গে দেওহাটা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই, স্থানীয় শহিদ মিয়া, শওকত আলী, নুরুল ইসলাম, ফরিদ মিয়া ও জুয়েলসহ আরও অনেকে জড়িত। যারা স্থানীয় জমির মালিকদের কাছ থেকে মাটি কিনে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেন। এতে ওই এলাকার কৃষি জমি ধ্বংস করে পুকুর তৈরি করা হচ্ছে।

Mirzapur

স্থানীয় ইটভাটার শ্রমিক কবির হোসেন জানান, বাঁধের কারণে একপাশে পানি বেশি রয়েছে। এজন্য একপাশে মাছ আটকা পড়ে আছে। নদে যে পানি আছে তাতে নৌকা চলতো। কিন্তু নদে বাঁধ দেয়ায় নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে সাবেক ইউপি সদস্য স্টাইল ব্রিকসের মালিক আব্দুল হাই জানান, তিনি ওই বাঁধ দিয়ে ১৫ দিন আগে মাটি আনা বন্ধ করেছেন। এখন শুধু ফজল ব্রিকসে মাটি নেয়া হচ্ছে। আর কে কে মাটি নেন তা তিনি জানেন না। তার সঙ্গে স্থানীয় শওকত, নুরুল ইসলাম, ফরিদ মিয়া, রুকন উদ্দিন ও জুয়েল ওই বাঁধ দিয়ে মাটি আনতেন বলে স্বীকার করেন। তবে অন্য কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মাটি ব্যবসায়ী ও এসএমবি ব্রিকসের মালিক শহিদ মিয়ার ভাটায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনে বারবার কল দেয়া হলেও তিনি ধরেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত সাদমীন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এস এম এরশাদ/এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।