জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকায় ভাঙ্গুড়ায় হাসপাতালে ভাঙচুর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০১:৩৫ এএম, ২৪ মে ২০১৮

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক না থাকায় লাবনী আক্তার (১৪) নামের এক মুমূর্ষু রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পরে পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরিবেশ শান্ত হয়। লাবনী ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের পাথরঘাটা মহল্লার বাকি বিল্লার মেয়ে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে লাবনী ভুলবশত বাড়িতে থাকা কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভাঙ্গুড়া হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে তার স্বজনরা। সেসময় জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসাসেবা পায়নি মুমূর্ষু ওই কিশোরী। পরে নার্স ও পিয়নরা এসে পাকস্থলি ওয়াশ করে তাকে প্রাথমিকভাবে বিষমুক্ত করেন।

ঘটনার দুই ঘণ্টা পার হলেও আবাসিক মেডিকেল অফিসার আক্তারুজ্জামানকে অনেকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি বলে জানান রোগীর স্বজনরা। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের অফিস কক্ষের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন।

খবর পেয়ে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্স হামিদুল ইসলাম এসে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানমকে খবর দেন। পরে তিনি পুলিশের এসআই আমিরুল ইসলাম ও সুভাষ সরকারকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করেন। এসময় রোগীর স্বজনরা তাকেও গালিগালাজ করেন।

পরে পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। দীর্ঘক্ষণ চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হালিমা খানমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ডাক্তার না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে মাত্র দুইজন ডাক্তার থাকার কারণে রোগীদের অতিরিক্ত চাপে পড়তে হচ্ছে তাদের। তাই ইচ্ছা থাকলেও পর্যাপ্ত সেবা দেয়া যাচ্ছে না।

একে জামান/বিএ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।