ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট নেই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০২:০৫ পিএম, ১৪ জুন ২০১৮

ঈদ যাত্রার ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে যানজটের আশঙ্কা করলেও এখন পর্যন্ত মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

ঈদ যাত্রায় দ্বিতীয় দিনে ব্যস্ততম এই মহাসড়কে ভোগান্তি ছাড়াই ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাতায়াত করেছেন। স্বাভাবিক গতিতেই গাড়ি চলছে মহাসড়কে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উত্তরের পথে গাড়ির বাড়তি চাপ থাকলেও এখনও কোনো যানজটের চিত্র দেখা যায়নি। বিগত দিনে ঈদ যাত্রায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকায় চরম ভোগান্তির অভিজ্ঞতাও রয়েছে এ সড়কে যাতায়াতরত চালক ও যাত্রীদের। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

jagonews24

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যানজটের কোনো চিত্র দেখা যায়নি। ফলে এবার স্বস্তিতে ঘরে ফিরছেন মানুষ।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের সার্জেন্ট আজিজুর রহিম তালুকদার বলেন, ঈদযাত্রায় দ্বিতীয় দিনেও ঘরমুখো মানুষ স্বতিতে যেতে পারছে। মহাসড়ক প্রায়ই স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। আশা করছি ঘরমুখো মানুষ এবারে ভোগান্তি ছাড়াই মহাসড়ক পাড়ি দিতে পারবেন। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ হতে পারে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, দুর্ভোগ লাঘবে সরকারের চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ এখন অনেকটা দৃশ্যমান। গত ১২ জুন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে চার লেন ও কয়েকটি ব্রিজ খুলে দেয়া হয়েছে। চার লেন ব্যবহার করায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে না। আগে এ সড়কে যানজট লেগেই থাকতো। কিন্তু এবার ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতেই বাড়ি ফিরছেন।

jagonews24

জানা গেছে, জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত চলমান চার লেন প্রকল্পে ২৬টি ব্রিজের মধ্যে ২৪টি ব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া তিনটি ফ্লাইওভারের কাজ ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। মোট ৬০টি কালভার্টের মধ্যে ৫২টি কালভার্টের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তবে এগুলোর সংযোগ সড়ক এখনও নির্মাণ করা হয়নি। গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার মহাসড়কের কদিমধল্যা, পাকুল্যা, জামুর্কি, নাটিয়াপাড়া, দেওহাটা, ধেরুয়া, সোহাগপাড়া ও ক্যাডেট কলেজ, করটিয়া, টাঙ্গাইল রাবনা বাইপাস, ঘারিন্দা বাইপাস, রসুলপুর ও এলেঙ্গাসহ অধিকাংশ সড়কের দুই পাশে কাঁচা মাটি ভরাট ও ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তবুও চলতি বছরের ১২ জুন মহাসড়কের ২৩টি ব্রিজ যানবাহন চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেয়া হলো।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আমিনুল এহ্সান জানান, চার লেনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে জেলা সড়ক বিভাগের কর্মীরাও মহাসড়কের সার্বিক দায়িত্বে থাকবে। বৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে বড় গর্তের সৃষ্টি হলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তা মেরামতের ব্যবস্থা করবো। এতে এবার উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের মানুষ ভোগান্তিহীনভাবে মহাসড়ক পাড়ি দেবে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।