ছাত্রীকে বিয়ে করে চাকরি হারালেন শিক্ষক
বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে কাজ করছে বিভিন্ন মহল। ব্যক্তি উদ্যোগে চলছে নানা কর্মকাণ্ড। শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে বাল্যবিয়ে রোধ করতে যখন মাঠে কাজ করছে তখন এক শিক্ষক নিজ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তাকে বিয়ে করেছেন।
এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই শিক্ষক। সেই সঙ্গে বিয়ের পর বিদ্যালয় থেকে চাকরিও হারিয়েছেন। পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাটুলীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকার বিশেষ একটি মহল অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঘটনাটি বেশ কিছুদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখলেও সম্প্রতি তা জানাজানি হলে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ গ্রামের মনজুরুল ইসলাম (৩০) দুই বছর আগে পাটুলীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিষয়ে নিয়োগ পান।
একপর্যায়ে মনজুরুল ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী স্বর্ণা খাতুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পাটুলীপাড়া গ্রামের আবদুল খালেকের কন্যা স্বর্ণা ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
জানা যায়, এ বছরের মে মাসের প্রথমদিকে প্রেমের বিষয়টি স্বর্ণার পরিবার জানলে মনজুরুলকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু মনজুরুল বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে স্বর্ণা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। গুরুতর অসুস্থ স্বর্ণা পাবনা সদর হাসপাতালে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে।
এ ঘটনার পর মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে গোপনে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন শিক্ষক মনজুরুল। বিয়ের এক সপ্তাহ পার না হতেই বাল্যবিয়ের অপরাধে মনজুরুলকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি। এরপর থেকে মনজুরুল তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে বিভিন্ন মহলের কাছে ধরনা দিয়েও চাকরি ফিরে পাননি।
অভিযুক্ত শিক্ষক মনজুরুল ইসলাম জানান, মানবিক কারণে তিনি তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য ম্যানেজিং কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে পাটুলীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম সানোয়ার হোসেন জানান, কোনো শিক্ষককে দুই মাসের বেশি সময় সাময়িক বহিষ্কার করার বিধান নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে তারা খুবই চিন্তিত।
বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বাল্যবিয়ের অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষক মনজুরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আগামী মিটিংয়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ওই শিক্ষকের বহিষ্কারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন।
বিষয়টি জানতে চােইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একে জামান/এএম/এমএস