বেড়িবাঁধের জন্য ৪ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদী তীরে প্রায় ৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ না থাকায় দক্ষিণ আউড়া বাজার থেকে চিংরাখালি পর্যন্ত স্বাভাবিক জোয়ারের ৪টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। বর্তমান সরকারের এমপি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন (বিএইচ হারুন) বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে এখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু করেনি।
জানা যায়, এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ পেশা কৃষক ও জেলে। কিন্তু নদীর পানিতে তাদের জমি তলিয়ে থাকায় সারা বছরই কৃষি কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকরা। পানি ঠেকাতে একাধিকবার কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে সাময়িক বাঁধ দিলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের পূর্ণিমার জোয়ারে কৃষি জমির পাশাপাশি নদীর পানি বাড়ি ঘরে ডুকে তলিয়ে যায়। কাঁঠালিয়ার এই এলাকায় বাঁধ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের। বাঁধ না থাকায় আউড়া, জয়খালি, চিংড়াখালি ও মশাবুনিয়া গ্রামের প্রায় অর্ধ লাখ কৃষক ও জেলে পরিবারের দুর্ভোগের শেষ নেই। যাদের অধিকাংশের পেশা মাছ ধরা ও কৃষিকাজ। প্রায় ২ বছর পূর্বেই নদীর পাড় ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জয়খালির জেলে মোফাচ্ছের, মিরন জমাদ্দার, মশাবুনিয়া গ্রামের সুমন দাস, চিংড়াখালির শাহজাহান, রহমানসহ আরও অনেকেই জানান, তারা সবাই পেশায় কেউ জেলে ও কেউ কৃষক। তারা জানায় আমরা বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে ১ কিলোমিটার বাঁধ দিয়েছি। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পূর্ণিমার জোয়ারে বাঁধের ওপর দিয়ে পানি উপচে গ্রাম তলিয়ে যাচ্ছে। এ সব গ্রামের কৃষকরা কৃষিকাজ করতে না পারায় বেকার হয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসী বলেন, আমাদের এলাকার এই বাঁধ নির্মাণ ছিল বর্তমান সরকারের এমপি বজলুল হক হারুনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আজ পর্যন্ত আমরা দেখছি না।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রোমান হাসান জানান, কাঁঠালিয়ার দক্ষিণ আউড়া বাজার থেকে চিংরাখালি পর্যন্ত বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাবনা দেয়া আছে বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে। ইতোপূর্বে নদী ভাঙনে পূর্বের বাঁধ বিলীন হয়ে যাওয়ায় এই বাঁধটি নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে শুধু এই বাঁধটি নয় রাজাপুরের বড়ইয়া গ্রাম থেকে শুরু করে কাঁঠালিয়া আমুয়া পর্যন্ত বিষখালী নদীর মোট ৩০ কিলোমিটার বাঁধের একটি প্রকল্প তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও আমুয়া বন্দর রক্ষা প্রকল্পের জন্য ডিজাইন ও প্রাক্কলন তৈরির কাজ চলছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন জানান, কাঠালিয়া থেকে রাজাপুরের মঠবাড়ি নাপিতের হাট পর্যন্ত বিষখালী নদীর তীরে বেরিবাঁধ নির্মাণের প্রকল্পটি আগামী বাজেটে অনুমোদন দেয়া হবে। এই প্রকল্পের মধ্যেই দক্ষিণ আউড়া বাজার থেকে চিংরাখালি পর্যন্ত বাঁধ নির্মাণ রয়েছে।
মো.আতিকুর রহমান/আরএ/পিআর