আড়িয়াল খাঁয়ে বিলীন মাদরাসা, হুমকিতে বিদ্যালয়

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৮

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে চরমানাইর ইউনিয়নের চর বন্দরখোলা ফাজিল মাদরাসার অফিস কক্ষের একাংশ নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভবনের অন্য অংশও ঝুঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় বিলীন হতে পারে ভবনের ওই অংশটুকুও।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ নিয়ে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চর মানাইর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ভাঙ্ন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে গড়িমসি করছে। তাদের বালু নেই, লোকজন নেই। প্রতিদিন গড়ে ৫০০- ৬০০ জিও ব্যাগ ভাঙন কবলিত এলাকায় ফেলা হয়েছে। সপ্তাহে যে পরিমান জিও ব্যাগ ফেলার কথা ছিলো তা ফেলা হচ্ছে না। নিয়মিত জিও ব্যাগ ফেলা আজ এত বড় ক্ষতি হত না।

জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আড়িয়াল নদের ভাঙনে পড়ে মাদরাসা ভবন। তীব্র স্রোতে আর নদের গভীরতা বেশি থাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। হুমকিতে রয়েছে মাদরাসার আরও দুটি ভবন ও চর বন্দর খোলা নাদেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া বেশ কিছুদিন ধরে ওই ইউনিয়নে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ৬৫টি বসতবাড়ি, ইউনিয়নের ৫’শ বিঘা ফসলী জমি ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দুই শতাধিক গাছপালা।

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কাদের মোল্যা, সাইদুল কাজী, সামসু মোল্যা, রেজাউল, সুরুজ শেখসহ অনেকেই জানান, নদের ভাঙনে তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নদে তাদের ঘরবাড়ি এবং খাদ্য সামগ্রীও চলে গেছে। অসহায় হয়ে পড়ে তারা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

faridpur-vangn

এ দিকে চর বন্দরখোলা ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো.মাহফুজুল হাসান জানান, এর আগে মাদরাসার আরও দুটি টিনসেট নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমান অফিস কক্ষের বিল্ডিংয়ের একাংশে ভাঙন ধরেছে। যে কোনো মুহূর্তে পুরো ভবনটি নদে বিলীন হয়ে যাবে। তৃতীয় তলা ভবন নিয়ে শঙ্কিত। ভাঙনে মাদরাসার অন্যান্য ভবনগুলো বিলীন হলে চরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চরম হতাশার মধ্যে পড়বে শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে ফাজিল পরীক্ষা চলমান রয়েছে।

চর বন্দরখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নিজামদ্দিন আকন বলেন, ভাঙনে তার স্কুল একেবারেই ঝুঁকিতে রয়েছে। নদের গর্ত স্কুলের সামনেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে ক্লাশসহ পরীক্ষার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, উপজেলার ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগের ডাম্পিং কাজ চলছে। গত সপ্তাহ ধরে এ সকল এলাকায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মালেক মিয়া জানান, ভাঙন আতঙ্কে থাকা স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিদ্যালয়টি নিলামে দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে।

আরএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।