নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাজে ব্যস্ত কামাররা
আর মাত্র এক সপ্তাহ পরে ঈদুল-আজহা। তাই টুং টাং শব্দে সরগরম গাজীপুরের কালীগঞ্জের কামার পল্লীগুলো। নাওয়া-খাওয়া ভুলে গিয়ে অবিরাম কাজ করছেন কামাররা। একদণ্ড বিশ্রাম নেই। দিনরাত সমান তালে কাজ করছেন তারা। হাসুয়া, ছুরি, চাপাতি, দা, বটি তৈরির পাশাপাশি শান দেয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে এখানকার কামার পল্লীগুলো।
কোরবানির ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন ব্যস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কামার ও ক্রেতারা। ক্রেতারা তাদের পছন্দের হাসুয়া, ছুরি, চাপাতি, ভোজালি, কুড়াল, মাংস কাটার জন্য গাছের গুলের টুকরো কিনতে ব্যস্ত। তবে গত বছরের তুলনায় এবার এসব সরঞ্জামাদির দাম একটু বেশি বলে জানান স্থানীয় ক্রেতারা। তারপরও ক্রেতারা তা হাসি মুখে তৈরি করাচ্ছেন এবং কিনেও নিচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন কামার পল্লী সরেজমিনে দেখা যায়, কামার পল্লীগুলোতে কাক ডাকা ভোর থেকে ঝিঁঝিঁ ডাকা রাত পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছেন তারা। সারা বছর কাজ না থাকলেও কোরবানির ঈদের এ সময়টা বরাবরই ব্যস্ত থাকতে হয় তাদের। পশু জবাইয়ের সরঞ্জামাদি কিনতেও লোকজন ভিড় করছে কামার পল্লীতে। এখন প্রতিটি কামারের দোকানে শোভা পাচ্ছে পশু জবাইয়ের উপকরণ।

কালীগঞ্জ বাজারের শ্রীদাম দাস, ও লক্ষণ কর্মকার জানান, সারা বছর কাজ খুব কম থাকে কোরবানি এলে কাজ বেড়ে যায়। বর্তমানে ছোট ছুরি থেকে শুরু করে বড় ছুরি ও ধামার শান দেয়ার জন্য ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কাজের গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি দা বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৩শ টাকা, হাসুয়া ২০০ টাকা, ছোট ছুরি ৮০ টাকা, বটি ২৫০ টাকা, চাপাতি ২৫০-৩০০ টাকা করে।
কালীগঞ্জ বাজারে পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনতে আসা পৌর এলাকার ভাদার্ত্তী গ্রামের সেলিম জানান, কোরবানির ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি তাই আগেই পশু জবাইয়ের সরঞ্জাম কিনে কিছু কাজ এগিয়ে রাখছেন। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ছুরি, চাকু, চাপাতির দাম একটু বেশি বলে জানান তিনি।
কালীগঞ্জ বাজারের খেয়াঘাট এলাকার আরেক কামার দোকানী বক্তারপুর গ্রামের মানিক কর্মকার চাপাতির দাম সম্পর্কে বলেন, এখন প্রতিটি চাপাতি ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। তবে ঈদ ছাড়া অন্য সময় দাম একটু কম রাখা হয় বলে স্বীকার করেন তিনি।

এদিকে যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শাণ দেন তাদের অবস্থাও ভালো। এ কাজের সঙ্গে জড়িত কুমিল্লার আক্কাস আলী জানান, তাদের কমবেশি সারা বছরই কাজ থাকে। কারণ মহিলাদের তো সারা বছরই হাসুয়া, দা-ছুরি দিয়ে কাজ করতে হয়। তবে কোরবানি ঈদ এলেই ব্যস্ততা আরও বেড়ে যায়।
পশু জবাইয়েন সরঞ্জামাদি কেনা ও মেরামত করার দাম বেশি হওয়ার বিষয়ে কামার দোকানীরা বলেন, বর্তমানে কয়লা ও রডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দা-ছুরির দামও একটু বেশি নিতে হচ্ছে। তা না হলে ব্যবসায় লাভ করা যায় না।
এদিকে ঈদের এসব প্রয়োজন বলে বেশি দামেই ক্রেতারাও কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
আব্দুর রহমান আরমান/ আরএ/আরআইপি