বেতন বোনাস না দিয়ে কর্মকর্তারা উধাও

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৪:১৭ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮

শ্রমিকদের বেতন বোনাস না দিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরশনের বোর্ডবাজার এলাকার দুইটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তারা উধাও হয়ে গেছেন। কারখানা দুইটি হলো-বোর্ডবাজারের উত্তর খাইলকুর পলাগাছ এলাকার এসআর ওয়ান এপারেলস লিমিটেড এবং গাছা পূর্বপাড়া ইয়াকুব আলী মেম্বার মার্কেট এলাকার আর এস সোয়েটারর্স।

এ ঘটনায় সোমবার সকাল থেকে কারখানা এলাকায় বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা।

এসআর ওয়ান এপারেলস লিমিটেড কারখানার সুয়িং অপারেটর সোহেলী বেগম ও ফিনিশিং কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর শারমিন আক্তার জানান, কারখানা কর্তৃপক্ষ অধিকাংশ শ্রমিকদের জুলাই মাসের বেতন দেয়নি। ১৫ আগস্ট তাদের জুলাইয়ের বেতন এবং ২০ আগস্ট চলতি মাসের ১০ দিনের বেতন দেয়ার কথা ছিল। ১৫ আগস্ট কিছু শ্রমিককে আংশিক বেতন পরিশোধ করলেও অন্যদের বেতন, বোনাস না দিয়ে রোববার রাতে কারখানার মালিক-কর্মকর্তারা টাকা সংকট থাকায় কারখানার কিছু মেশিন ও মালপত্র বিক্রির কথা বলে সরিয়ে নিয়ে তারা কৌশলে গা ঢাকা দেয়।

Gazipur-2

এ দিকে সকাল সাড়ে ৯টার সময় শ্রমিকরা পাওনার দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ (গাজীপুর) পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর পর্যন্ত মালিক ও কর্মকর্তাদের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। পরে কারখানার ভবনের মালিক মো. শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে শ্রমিকদের অন্তত বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

Gazipur-1

তিনি আরও জানান, একই অভিযোগ পাওয়া গেছে গাছা পূর্বপাড়া ইয়াকুব আলী মেম্বার মার্কেট এলাকার আর এস সোয়েটারর্সের মালিক-কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

আর এস সোয়েটারর্সের নিটিং অপারেটর মো. ইমরান জানান, শ্রমিকরা জুনের আংশিক, জুলাইয়ের পুরো মাস ছাড়াও আগস্টের ১৫ দিনের বেতন পাওনা রয়েছেন। ১৮ আগস্ট মধ্যরাতে তৈরি কারখানা থেকে মালামাল সরিয়ে নিয়ে যায়। পরে শুধু নারী শ্রমিকদের ১০০০ টাকা করে দিয়ে বাকি পাওনাদি কারখানার মালিক-কর্মকর্তা ও স্থানীয় ৩৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিল মো. আলমগীর হোসেন মাস্টার ২০ আগস্ট দুপুর ১২টার মধ্যে পরিশোধের আশ্বাস দেন। কিন্তু ২০আগস্ট সকালে শ্রমিকরা কারখানায় গিয়ে ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকেও কারখানা কর্তৃপক্ষের কেউ কারখানায় যাননি। এ ঘটনায় শ্রমিকরা কারখানা চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

মো. আমিনুল ইসলাম/আরএ/পিআর