খোঁজার দরকার নাই, আমরা স্বামীর ঘরে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৭:৩৯ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পাঁচ দিনেও খোঁজ মেলেনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মোগরখাল এলাকায় ‘হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র’ থেকে পালিয়ে যাওয়া পাঁচ কিশোরীর।

৭ সেপ্টেম্বর রাতে সেফহোম থেকে পালিয়ে যায় ১৭ নিবাসী। ঘটনার পরদিন গাজীপুর ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থেকে ১২ জনকে উদ্ধার করা হলেও বুধবার পর্যন্ত পাঁচ নিবাসীর কেউই উদ্ধার হয়নি। এ ব্যাপারে ৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের হোস্টেল সুপার জোবায়দা খাতুন জয়দেবপুর থানায় জিডি করেছেন।

নিখোঁজরা হলো- রিয়ামনি (১৩), হাসনা হেনা সুমী (১৪), রিমা এবং ২০ ও ১৮ বছরের দুই অজ্ঞাত বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী। এদের মধ্যে রিয়ামনি ও সুমী সেফহোম থেকে পালানোর কাজে নেতৃত্ব দেয় বলে হেফাজত কেন্দ্রের কর্মকর্তা বলেছেন।

হেফাজত কেন্দ্রের সহকারী সুপার নাজনীন ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, পালানোর পাঁচদিন পার হলেও আজ বুধবার পর্যন্ত পাঁচ কিশোরীর কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের মধ্যে রিয়ামনি ও সুমী তাদের অভিভাবকদের ফোন করে জানিয়েছে, তাদের খোঁজার দরকার নাই। তারা তাদের স্বামীর ঘরে আছে। তবে সেই জায়গা কোথায় তা জানায়নি তারা।

নাজনীন ফেরদৌসী মজুমদার আরও বলেন, পরিবারের অমতে বাল্যবিয়ে করায় অভিভাবকদের দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় গ্রেফতারের পর আদালতের নির্দেশে সেফহোম ছিল ওই দুই কিশোরী। অপর তিনজনের মধ্যে রিমার পূর্ণ ঠিকানা আমাদের কাছে নেই, বাকি দুইজন অজ্ঞাত বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এরা তিনজন জিডিমূলে যথাক্রমে গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও জামালপুর আদালত থেকে এ হেফাজত কেন্দ্রে আসে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মোগরখাল এলাকায় শিশু ও কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে বিভিন্ন মামলার গ্রেফতার ও জিডি মূলে ৩৪ জন নিবাসী ছিল।

৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে কয়েক নিবাসী লোহার খাটের পায়া দিয়ে আবাসন ভবনের দোতলার ২০৫ নম্বর কক্ষের গ্রিল ভেঙে ফেলে। পরে বিছানার চাদর ও ওড়না বেয়ে নিচে নেমে ১৭ নিবাসী পালিয়ে যায়।

রাত ১২টার দিকে কেন্দ্রের কর্মকর্তারা তদারকি করতে ২০৫ নম্বর কক্ষে গিয়ে জানালার গ্রিল ভাঙা এবং কোনো নিবাসী দেখতে না পেয়ে রাতেই বিষয়টি থানা পুলিশকে জানায়।

পরে জয়দেবপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাসন সড়ক এলাকা থেকে তিনজন এবং ওই কেন্দ্রের পেছনের দিকের রাস্তা থেকে একজনকে উদ্ধার করে। পাশাপাশি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানা পুলিশ মির্জাপুর স্টেশন এলাকা থেকে পলাতক আরও আটজন নিবাসীকে আটক করে হেফাজত কেন্দ্রে পাঠায়।

জয়দেবপুর থানাধীন ভোগড়া পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, নিখোঁজ কিশোরীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।

গাজীপুর জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা শাহানাজ আক্তার জানান, বন্দী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ৯ সেপ্টেম্বর থেকে কাজ শুরু করেছেন। তিনি নিজে এবং গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. তোফাজ্জল হোসেন কমিটির সদস্য। পাশাপাশি গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী তদন্ত কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিন দিনের মধ্যে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার কথা রয়েছে।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তদন্ত কমিটির প্রধান দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা থাকলে প্রতিবেদন সম্পন্ন না হওয়ায় আরও দুদিন সময় বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দেব।

এছাড়া মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সমাজসেবা অধিদফতরের উপ-পরিচালক ফরিদা ইয়াছমিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।

মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/এমএস

আপনার মতামত লিখুন :