১৫ দিন পর বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি রফতানি শুরু

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পঞ্চগড়
প্রকাশিত: ০৪:০৪ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ১৫ দিন অচলাবস্থার পর আবারও আমদানি রফতানি শুরু হয়েছে। লেবার হেন্ডেলিং ঠিকাদার, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লি. এবং আমদানী রফতানিকারকদের দ্বন্দ্বের কারণেএই শুল্ক স্টেশনে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে পণ্য আমদানি রফতানি বন্ধ ছিল। এতে কর্মহীন হয়ে পরেন বন্দরের কুলি শ্রমিকসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয় সরকার।

জেলা প্রশাসনের আহবানে শনিবার বিকেল ৪টা থেকে রাত প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে উভয়পক্ষের সমঝোতায় বন্দরে আবারও আমদানি রফতানি চালু হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জেলা প্রশাসক মো. জহিরুল ইসলাসের আহ্বানে জরুরি বৈঠকে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও বাংলাদেশ স্তলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) আনিছ আহমদ, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান, পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, কাস্টমসের উপ কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলামসহ আমদানি রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বন্দর সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

Panchagarh-Land-Port

সমঝোতা অনুযায়ী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের কাছ থেকে বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেড পণ্যের টন প্রতি ১০৪ টাকা গ্রহণ করবে। এর মধ্যে তারা ২৬.৪২ টাকা এবং বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ১২.০৫ পাবে। বাকি ৬৫.৫২ টাকার মধ্যে ৫ শতাংশ ভ্যাট, ৭ শতাংশ আইটি এবং লেবার হ্যান্ডেলিং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এটিআই লিমিটেডের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ বাদ দিয়ে লেবার বাবদ ৫১.১১ টাকা ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে পণ্য আনলোড বাবদ ২৭.১১ টাকা এবং লোড বাবদ ২৪ টাকা কুলি শ্রমিকদের দেয়া হবে। এর আগে পণ্য উঠা-নামা বাবদ মাত্র ৪০ টাকা দেয়া হতো। হিসাব অনুযায়ী কুলি শ্রমিকদের অতিরিক্ত পাওনা ১১.১১ টাকার তথ্য বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেড এবং লেবার হ্যান্ডেলিং প্রতিষ্ঠান এটিআই লিমিটেড গোপন করে। এসব বিষয় নিয়ে বন্দরটিতে অচলাবস্থা দেখা দেয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর লিমিটেড, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এবং আমদানি রফতানিকারকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণে গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্দরে পাথর আমদানি বন্ধ ছিল। বন্দর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা টানা বৈঠকের পর উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে বন্দরটি আবারও চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়।

সফিকুল আলম/আরএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :