বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের জলহস্তী পরিবারে নতুন সদস্য

উপজেলা প্রতিনিধি শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে জলহস্তী পরিবারে জন্ম নিয়েছে নতুন শাবক। নতুন জন্ম নেয়া এ শাবকটি নিয়ে পার্কে জলহস্তীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো চারটি।

গত ১২ সেপ্টেম্বর পার্কের জলহস্তী বেষ্টনীর ভেতরের পানিতেই এ শাবকের জন্ম হয়। তবে এখনো শাবকটি রাখা হয়েছে চোখের আড়ালে। জলহস্তী পরিবারে নতুন শাবক জন্মের ঘটনায় খুশি পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পার্কের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আনিছুর রহমান জানান, বেশিরভাগ সময়ই শাবকটি পানির নিচ থেকে শুধু মার্বেলের মতো দুটি চোখ বের করে মায়ের কাছে অবস্থান করতে দেখা গেছে। শাবকটি মাঝে মধ্যে ভেসে উঠলেও আবার পানির নিচে উধাও হয়ে যায়। একটু পর পর মাকে জাপটে ধরার চেষ্টা করে। পানির মধ্যেই ডুবে ডুবে দুধ খেয়ে নেয় শাবকটি।

তিনি জানান, জলহস্তীর শাবক জন্মের পর নিরাপত্তাজনিত কারণে পানিতে থেকেই মায়ের দুধ পান করে। রাতের অন্ধকারে পানি থেকে স্থলে উঠে আসে। তাই পার্ক কর্তৃপক্ষও শাবকটি এখনো কাছ থেকে দেখেনি। তবে পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী শাবকটি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে। এর খাবারের কথা বিবেচনা করে মা জলহস্তীকে গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ভুট্টা ও কচি ঘাস খেতে দেয়া হচ্ছে।

জলহস্তীর বাচ্চারা ছয় মাস পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধ পান করে। পরে আস্তে আস্তে ঘাস, লতা-পাতা ও দানাদার খাবারে অভ্যস্ত হয়। তবে এক বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ ছাড়ে না এরা। পানিতে ভিজে থাকা অবস্থায় তাদের শরীর নজর কাড়া চকচকে দেখায়।

জলহস্তী দেখতে নিরীহ মনে হলেও এ প্রাণীটির রাগ প্রকাশের ধরনটা একেবারে অন্য রকম। রাগলে তাদের শরীর ক্রমাগত ঘামতে থাকে। আর সেই ঘামের রঙ হলো লাল। দেখলে মনে হবে শরীর দিয়ে যেন রক্ত ঝড়ছে।

সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালে দক্ষিণ অফ্রিকা থেকে সাফারি পার্কে একটি মাদী ও একটি পুরুষ জলহস্তী আনা হয়। ২০১৭ সালে ওই দম্পতি থেকে একটি জলহস্তী পাওয়া যায়। এছাড়া বর্তমানের নতুন শাবকটি নিয়ে পার্কে জলহস্তীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৪টিতে।

শিহাব খান/এফএ/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :