নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চালু হয়েছে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার। এখন থেকে জেলার দরিদ্র-হতদরিদ্র রোগীদের ডায়ালাইসিসের জন্য আর বেসরকারি হাসপাতাল বা জেলার বাহিরে যেতে হবে না। প্রতিদিন এ হাসপাতালে স্বল্পমূল্যে কিডনি ডায়ালাইসিসের সেবা পাবে অন্তত ৩০ জন রোগী। সরকারিভাবে এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

সোমবার প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে এ কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র সহিদ উল্যাহ খান সহেল, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ, সিভিল সার্জন ডা. বিধান চন্দ্র সেন গুপ্ত, আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের নেপরোলোজি (কিডনি) বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ফজলে এলাহী খাঁনসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

সরেজমিনে গেলা দেখা গেছে, হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলার দক্ষিণ পাশে দীর্ঘদিন বন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা সাতটি কক্ষে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার সংযুক্ত করা হয়েছে। কক্ষগুলোকে শীততাপ নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে। দুইটি কক্ষে পাঁচটি করে মোট ১০টি হেমো ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। রয়েছে মোট ১০টি বেড। এছাড়া একটি কক্ষে পানি বিশুদ্ধকরণ (আরও) প্ল্যানও স্থাপন করা হয়েছে। একটি কক্ষে কিডনির বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নতুন করে ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য স্থাপন করা হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর মেশিন।

Noakhali-Nephrologyi-Health

কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের কিডনি বিভাগের তত্ত্বাবধানে মূলত এ সেন্টার চলবে। সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আউটডোর রোগীদের ডায়ালাইসিস সেবা দেয়া হবে। এছাড়া ভর্তি রোগীদের জন্য ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকবে সেন্টারটি। এখানে রোগীদের সেবার পাশাপাশি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাসও করবেন। পুরো বিভাগে দুইজন কিডনি বিশেষজ্ঞ, দুইজন মেডিকেল অফিসার, বেশ কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক নিয়মিত থাকবেন। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল থেকে আলাদাভাবে প্রশিক্ষণ নেয়া নয়জন সিনিয়র নার্সও থাকবেন। থাকবেন দুইজন টেকনিশিয়ান।

আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের নেপরোলোজি (কিডনি) বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ফজলে এলাহী জাগো নিউজকে বলেন, জেলার সাধারণ মানুষকে ডায়ালাইসিস সুবিধা দেয়ার জন্য আমরা আন্তরিভাবে চেষ্টা করছি এবং করব। জেলার ২-৩টি বেসরকারি হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস ব্যবস্থা রয়েছে। তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া বেসরকারিভাবে ডায়ালাইসিস ব্যয়বহুল। প্রতিবার ডায়ালাইসিস করতে বেসরকারি হাসপাতালে খরচ হয় প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। আবার দেখা গেছে রোগীরা ভালো সেবাও পায় না। নানাভাবে তারা প্রতারণার শিকার হন।

তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে এ বিভাগটিতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পাশাপাশি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সিনিয়র নার্স রয়েছে। ডায়ালাইসিস করাতে প্রতিবার একজন রোগীর খরচ হবে মাত্র ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা। এছাড়া একসঙ্গে টাকা প্রদান করা হলে ৩-৬ মাসের প্যাকেজ সুবিধাও দেয়া হবে রোগীদের।

Noakhali-Nephrologyi-Health

অধ্যাপক ফজলে এলাহী জানান, দেশে প্রায় দুই কোটি লোক বিভিন্নভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। মোট ৮ লাখ রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিস সেবা নিচ্ছেন। কিডনি রোগের একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে হয় নতুন করে কিডনি প্রতিস্থাপন না হয় ডায়ালাইসিস। সেক্ষেত্রে পুরো দেশে এ সেবার ব্যবস্থা একদম নগন্য। সরকারি-বেসরকারিভাবে মাত্র ১০১টি ডায়ালাইসিস সেন্টার রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন অন্তত পক্ষে ১০০০টি ডায়ালাইসিস সেন্টার।

এদিকে প্রথম দিনে হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস করতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের চোখে মুখে হাসি দেখা গেছে। কারণ স্বল্প মূল্যে নিজ জেলার সরকারি হাসপাতালে এখন থেকে কিডনি ডায়ালাইসিস করতে পারবেন। এতে টাকাও কম লাগবে নানা ধরনের ঝামেলাও পোহাতে হবে না। তবে তাদের একটাই দাবি উদ্বোধনী দিনে তারা যে পরিবেশ এবং চিকিৎসকদের আন্তরিকা দেখেছেন তা যেনো সব সময় থাকে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যাহ জানান, সাধারণ মানুষকে সেবা দেয়ার প্রত্যয়েই মূলত বিভাগটি চালু করা হয়েছে। এটি গোটা নোয়াখালীবাসীর জন্য সুখবর। চিকিৎসকরা আন্তরিকতার সঙ্গেই জেলার কিডনি রোগীদের সেবা দেবেন।

মিজানুর রহমান/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।