সরাইলে সিংহের থাবায় কাবু লাঙ্গল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৩:০০ পিএম, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮

একদাশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গেল সোমবার (১০ ডিসেম্বর) প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নেমেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি নির্বাচনী আসনের প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকার অলিগলি ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টারে। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এখানে-সেখানে গণসংযোগ চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।

তবে এবার ছয়টি আসনের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনটি নিয়ে ভোটারদের কৌতুহল সবথেকে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ আসনটিতে ভোটের লড়াইয়ে আছেন জামাই-শ্বশুর। তাদের একজন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. জিয়াউল হক মৃধা অপরজন জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাড. রেজাউল ইসলাম ভূইয়া। জিয়াউল হক মৃধার বাড়ি সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ গ্রামে। আর রেজাউল ইসলাম ভূইয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের কোড্ডা গ্রামে। যেটি জাতীয় সংসদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের অন্তর্গত।

তবে নিজ আসনের বদলে শ্বশুরের আসনে দলীয় মনোনয়ন চাওয়া নিয়ে সম্পর্কে ফাটল ধরতে থাকে জিয়াউল-রেজাউলের মধ্যে। রেজাউলকে জাপার মনোনয়ন দেয়ার প্রতিবাদে জিয়াউল হকের সমর্থকরা সরাইলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরবর্তীতে জিয়াউল হক স্বতন্ত্র পদে লড়ার জন্য তার মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। প্রতীক বরাদ্দের আগের দিন জিয়াউলকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে তাকে লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ দেয়ার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে চিঠি পাঠান জাপার মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে দলীয় প্রার্থীতে রূপান্তরের সুযোগ না থাকায় রেজাউলকেই দলীয় প্রার্থী হিসেবে ‘লাঙ্গল’ আর জিয়াউল হককে ‘সিংহ’ প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় জোর প্রচারণা শুরু করেছেন জিয়াউল হক। তবে সরাইলে এখনও সেভাবে প্রচারণা শুরু করতে পারেননি রেজাউল। প্রথম থেকেই তাকে বহিরাগত প্রার্থী উল্লেখ করে জিয়াউল হকের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে আসছিল। গতকাল মঙ্গলবার রেজাউলের প্রচারণার একটি মাইক সরাইল উপজেলা সদরে আটকে দেয়া হয়। উপজেলা কুট্টাপাড়ায় একটি শোকসভায় অংশ নিলেও সরাইল উপজেলা সদরে সেভাবে প্রচারণা শুরু করতে পারনেননি রেজাউল।

উপজেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) শীর্ষ নেতারাও তাকে প্রত্যাখান করেছেন। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াউল হকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আদৌ রেজাউল সরাইলে নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালাতে পারবেন কিনা সেটিও এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরাইল উপজেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব হুমায়ূন কবির জাগো নিউজকে বলেন, সে (রেজাউল) জাপার প্রার্থী না। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। জিয়াউল হক মৃধাকে চূড়ান্ত প্রার্থী করা হয়েছে। আমরা তার পক্ষে আছি। রেজাউলের সঙ্গে আমরা নেই। তার বাড়িও এ আসনে না। আমরা সরাইলবাসী বহিরাগত প্রার্থীকে ভোট দেব না এমপি বানাব না। সরাইলে স্বশরীরে প্রচারণা চালানোর সাহস পাবে না রেজাউল। সরাইলবাসী তার প্রচারণার মাইক ফিরিয়ে দিয়েছে।

তবে রেজাউল ইসলাম ভূইয়া জাগো নিউজকে বলেন, প্রচারণা চালাতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। প্রচারণার মাইকে বাধা দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি সমাধান হয়ে গেছে। গতকাল সারাদিন আমি সরাইল-আশুগঞ্জের ১৬/১৭ জায়গায় ঘুরে এসেছি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) সরাইলে আমাদের গণমিছিল আছে।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।