পাঁচ পুরুষ বনাম এক নারী

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশিত: ০৪:২২ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে পাঁচ পুরুষ প্রার্থীর সঙ্গে প্রথমবারের মতো ভোটে লড়ছেন এক নারী। বিষয়টি স্থানীয় ভোটারদের মাঝে বেশ আলোচিত। নারী ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নারী প্রার্থী।

নারী প্রার্থী হলেন- প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল মনোনীত রূপা রায় চৌধুরী। তিনি বাঘ মার্কা নিয়ে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী কাগজে কলমে থাকলেও প্রচারণায় নেই।

তবে প্রচারণায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের মো. একাব্বর হোসেন, বিএনপির আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের রুপা রায় চৌধুরী। বাকি অন্য প্রার্থীদের প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে টাঙ্গাইল ৭ (মির্জাপুর) আসন গঠিত। এ আসনে ৩ লাখ ২২ হাজার ৬৭৩ জন ভোটার রয়েছেন। নারী ১ লাখ ৬২ হাজার ৭৯৫ জন এবং পুরুষ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭৮ জন। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৬০ হাজার ভোটার রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ আসনে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে একমাত্র নারী প্রার্থী শ্রীমতি রূপা রায় চৌধুরী। তার স্বামীর বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের বাগজান গ্রামে। স্বামীর নাম চন্দন রায় চৌধুরী। রুপা ধামরাই উপজেলার অনিল চন্দ্র মৌশালের মেয়ে। শ্বশুর ভবেশ চন্দ্র রায় একজন দলিল লেখক। সংসারে আয় রোজগারের তেমন ব্যবস্থা না থাকলেও হলফনামায় তিনি ৮৪ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। এর মধ্যে বাবা ৩২ হাজার, শ্বশুর ১৮ হাজার, শাশুড়ি ১৬ হাজার টাকা পেয়েছেন।

পাশাপাশি তার নিজের কাছে ১৮ টাকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি তিন ছেলে সন্তানের জননী। বড় ছেলে রুদ্র রায় চৌধুরী তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। মেজো ছেলে রূপম রায় চৌধুরীর বয়স ৪ বছর ও ছোট ছেলে কৌশিক রায় চৌধুরীর বয়স ২ বছর। স্বামী চন্দন রায় চৌধুরী একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন টানা তিনবারের এমপি মির্জাপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন (নৌকা), বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশু বিষয়ক সম্পাদক মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি দুইবারের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম জহির (লাঙল), খেলাফত মজলীসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ মাওলানা মজিবর রহমান (দেয়াল ঘড়ি) ও ইসলামী আন্দোলনের শাহিনুর ইসলাম (হাতপাখা)।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর পাশাপাশি রূপা রায় চৌধুরীও উপজেলার সর্বত্র পোস্টার সাঁটিয়েছেন। কর্মীও নামিয়েছেন। প্রচারের জন্য মাইকও ব্যবহার করছেন। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভোট প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা বাড়ছে এ আসন ঘিরে।

২০০১, ২০০৮ সালের নির্বাচনে এখানে বিএনপির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য মো. একাব্বর হোসেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে না আসায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একাব্বর হোসেন তৃতীয় বারের মতো এমপি হন।

এদিকে, আসনটি পুনরুদ্ধার করতে বিএনপি মরিয়া হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তারাও ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক সাংসদ আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীকে বিজয়ী করতে একাট্টা হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

বাগজান গ্রামের অনিতা রায়, নন্দ দুলাল, নিপার রায়, মিঠুন, সজিব ও সুমন জানান, তারা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্রীমতি রূপা রায়কে বিজয়ী করতে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

রূপা রায়ের স্বামী চন্দন রায় চৌধুরী জানান, একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় দেড় লাখ লোকের বসবাস। এর মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার ভোটার রয়েছে। এ সম্প্রদায়ের কেউ কোনো জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হয়নি। আমার স্ত্রী রূপা রায় চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আশা করি সকল ধর্মের ভোটাররা রূপাকে বাঘ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়ী করবেন।

শ্রীমতি রূপা রায় চৌধুরী বলেন, জনগণের সেবা করতে ছোটবেলা থেকে এমপি হওয়ার ইচ্ছা। স্বামীর সংসারে এসে সে ইচ্ছা পূরণ করতে প্রার্থী হয়েছি। এখানের ভোটাররা বাঘ মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে জয়ী করবেন।

এস এম এরশাদ/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :